Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

কোভিড পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে ভাল থাকবে হার্ট, জরুরি পরামর্শ দিলেন ডাক্তার দিলীপ কুমার

করোনা সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। রোগ সারিয়েও উঠেছেন অনেকে। করোনার টিকাও চলে আসবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। তবে এইসবের মধ্যেই চিন্তার কারণ হল কোভিড পরবর্তী সময়টা, যাকে বলা হচ্ছে পোস্ট-কোভিড ফেজ। সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগীরা স্বাস্থ্যের খ

কোভিড পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে ভাল থাকবে হার্ট, জরুরি পরামর্শ দিলেন ডাক্তার দিলীপ কুমার

শেষ আপডেট: 4 January 2021 18:30

করোনা সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। রোগ সারিয়েও উঠেছেন অনেকে। করোনার টিকাও চলে আসবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। তবে এইসবের মধ্যেই চিন্তার কারণ হল কোভিড পরবর্তী সময়টা, যাকে বলা হচ্ছে পোস্ট-কোভিড ফেজ। সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগীরা স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবেন কীভাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষত কোমর্বিডিটির রোগীরা যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, সিওপিডি আছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি দরকার। সংক্রমণ সারলেও পরবর্তীকালে জটিল রোগ ধরবে না তো? ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিতীয়বার ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই তো? ক্রনিক রোগ রয়েছে যাঁদের বা হার্টের রোগীরা কীভাবে সাবধান থাকবেন? এইসব প্রশ্নেরই উত্তর নিয়েই দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি তিয়াষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট অ্যান্ড ডিভাইস স্পেশ্যালিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার। দ্য ওয়াল:  কোভিড নিয়ে কেটে গেল এতগুলো মাস। এখনও কি হার্টের রোগীদের সতর্কতা একই রকম থাকবে? ডক্টর: কোভিড নিয়ে প্রায় আট থেকে নয় মাস কাটিয়ে দিয়েছি আমরা। এখন অনেকটা ভাল সময়। আতঙ্কের একটা প্রহর পেরিয়ে এসেছি আমরা। অনেক রোগী জীবনযুদ্ধে হেরে গেছেন, আবার অনেকে বাঁচার লড়াই করছেন। বিশেষ করে, কোমর্বিডিটি রোগীরা যাঁরা হার্ট, ডায়াবেটিস, সিওপিডিতে ভুগছিলেন এবং সেই সঙ্গে করোনা সংক্রমণও ধরা পড়েছিল, তাঁদের অনেকটা জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আমি সবসময় বলব, এখন তুলনামূলকভাবে ভাল সময়ের মধ্যে এসেও সতর্কতা ভুলে গেলে চলবে না। আমি ভয় দেখাচ্ছি না, শুধু এটাই বলব, এতমাস যেভাবে সতর্ক হয়ে কোভিড বিধি মেনে মানুষজন চলেছেন, এখনও যেন সেটাই হয়। রাশ আলগা করলে চলবে না। ভ্যাকসিন আসবে, দেশের একটা বড় অংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তারপর রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠবে, এটাও একটা লম্বা প্রক্রিয়া। তাই সাবধান থাকতেই হবে। Wingate: Heart Disease Information Program – Council on Aging in Union County এবার আসা যাক হার্টের রোগীদের কথায়। হার্টের রোগী যাঁরা করোনা সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন তাঁদের কীভাবে সাবধান থাকতে হবে, কী কী নিয়ম মানতে হবে সেটাই সহজ করে বলছি। হয়ত সকলেই শুনেছেন, তিন-চার মাসেও হার্টের রোগীদের নিয়ে চিন্তা ছিল খুব বেশি। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল, করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পরে রোগীদের কার্ডিয়াক ফাইব্রোসিস হচ্ছে, ফুসফুসে ফাইব্রোসিস হচ্ছে। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে জটিল রোগ ধরছে। করোনা সংক্রমণ হলে এই ধরনের রোগের সম্ভাবনা আছে বলে সতর্ক করাও হচ্ছিল। তবে ভাল কথা হল, এই ভয়টা এখন কেটেছে। গত চার মাসে এমন জটিল রোগ কোনও করোনা রোগীর শরীরেই সেভাবে দেখা যায়নি। তাই আমি বলব, হার্ট বা কোমবির্ডিটির রোগী যাঁরা সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাঁরা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে বাঁচুন। তবে হ্যাঁ, কিছু নিয়ম মানতেই হবে। মাস্ক, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জরুরি। যে ধরনের নিয়মগুলো বলে দেওয়া হয়েছে সেগুলো মেনে চলতেই হবে। সঠিক ডায়েট মানতে হবে। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়াটাও জরুরি। Amid COVID-19 pandemic, your heart seeks extra care - eHealth Magazine দ্য ওয়াল: কতদিন চলতে হবে এভাবে? ডক্টর: আগেই বলেছি, করোনা সংক্রমণে হার্ট বা ফুসফুসের ফাইব্রোসিস জনিত রোগ এখন ধরা পড়ছে না। তাই অযথা ভয়, উৎকণ্ঠার দরকার নেই। সংক্রমণের ভয়ে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে অনেকের মধ্যেই যেটা ভাল কথা নয়। আমি বলব, সুস্থভাবে, স্বাভাবিক জীবন কাটান। আগে যেমনটা ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই। শরীরের দিকে খেয়াল রেখে চলাটা জরুরি। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে, মাস্ক পরে বাইরে বের হতে হবে। রুটিন চেকআপ করানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে শরীরচর্চা এগুলো করলে আর কোনও ভয়ই থাকবে না।
শুনে নিন, কী বলছেন ডাক্তারবাবু।
https://youtu.be/XmPRId7Rug0 দ্য ওয়াল: এখন কত দিন ছাড়া-ছাড়া হার্টের সমস্যার ফলো আপ করাতে আসবেন রোগীরা? ডক্টর: আমাকে অনেক রোগীই এই প্রশ্ন করেছেন। যাঁদের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছিল বা পেসমেকার বসাতে হয়েছিল, অথবা হার্ট ফাংশন দুর্বল ছিল এবং করোনা সংক্রমণও ধরা পড়েছিল, তাঁদের এখন কী করণীয়। কতদিন পর পর ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে হবে। আমি সকলকেই বলি, আগে যেমনভাবে রুটিন চেকআপ চলছিল, পোস্ট-কোভিড পর্যায়তেও তেমনটাই করতে হবে। ডাক্তারের চেম্বারে আসতে সমস্যা হলে টেলিকনসালটেশন করানো যেতে পারে। যদি দেখেন, আপনারা টেলিমেডিসিনে স্বচ্ছন্দ, বিশেষজ্ঞের কাছে সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন, তাহলে তাতে কোনও অসুবিধা নেই। হাইপারটেনশনের রোগীরা টেলিমেডিসিনের সুবিধা নিতেই পারেন। তবে যদি দেখেন, শারীরিক কোনও সমস্যা হচ্ছে যেমন শ্বাস নিতে কষ্ট বা অল্পেই হাঁফ ধরছে, সিঁড়ি ভাঙতে বা হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে তখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপ করানো জরুরি। অনেকেই বলেছেন, আগে তাঁরা যতটা হাঁটতে পারতেন, করোনা সারানোর পরে সেটা একেবারেই পারেন না। ১০০ মিটার হাঁটলেও হাঁফ ধরে যায়। ঘন ঘন বুকে কফ জমতে থাকে। মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তেমন হলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভাল। ECMO Survival Rates Tied to Hospital Experience with the Procedure | RT দ্য ওয়াল: ইকমো পদ্ধতিতে অনেক কোভিড-রোগী সারভাইভ করেছেন বলে শোনা গেছে। ইকমো কী? ডক্টর: কোভিড পর্যায়তে অনেক রোগীকেই ইকমো দিয়ে বাঁচানো হয়েছে। এই ইকমো পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন, যেমন ইকমো কী? নন-কোভিড পর্যায়ে ইকমোর গুরুত্ব কতটা, ইত্যাদি। ইকমো মানে হল এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজিনেশন। সহজ করে বলতে হলে, ইকমো হল এমন একটা মেশিন যা কৃত্রিম ফুসফুসের মতো কাজ করে। এই ফুসফুস শরীরের বাইরে থেকে রোগীকে বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। সেটা কীভাবে? যখন ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়ে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তখন এই ইকমো পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। রোগীর শরীরে থেকে রক্ত চ্যানেলের মাধ্যমে এই ইকমো মেশিনে ঢোকে। সেখানে রক্তকে বিশুদ্ধ করে অক্সিজেন সমৃদ্ধ করা হয় এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড ছেঁকে বের করে দেওয়া হয়। এবার এই অক্সিজেন যুক্ত রক্ত আবার চ্যানেলের মাধ্যমে শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর সুবিধা হচ্ছে, রোগীর হার্ট ও ফুসফুসের ওপরে বাড়তি চাপ পড়ে না। হার্ট ফাংশন দুর্বল রয়েছে যে রোগীর বা হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করতে হবে এমন রোগীকে অস্ত্রোপচারের আগে ইকমো পদ্ধতিতে রাখা হয়। হার্ট যখন পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না, তখন ইকমো মেশিন সেই কাজটা করে দেয়। রক্তের দূষিত কার্বন-ডাই অক্সাইড বের করে অক্সিজেন যুক্ত করে আবার শরীরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তই একে হার্ট অ্যান্ড লাং মেশিনও বলা হয়। দ্য ওয়ালকোভিড ছাড়াও ইকমোর গুরুত্ব কতটা? ডক্টর: কোভিড সংক্রমণের ক্ষেত্রে শুধু নয়, ফুসফুসের যে কোনও জটিল রোগেও ইকমো পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। হার্ট ফেলিওরের রোগী বা যাঁদের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছে বা বাইপাস সার্জারি, তাঁদের ক্ষেত্রে ইকমো পদ্ধতিতে ব্লাড পাম্প করা অনেক সুবিধাজনক। ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ আছে যাঁদের, হার্টের পাম্পিং করার ক্ষমতা কমে গেছে তাঁদের ক্ষেত্রেও ইকমো পদ্ধতির প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া যায়। ইকমো মেশিনের প্রয়োগে শরীরের কোষে সঠিকমাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছয়। হৃদপিণ্ড বা ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হবে যে রোগীদের, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনেক নিরাপদ ও কার্যকরী। অনেক রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় এই পদ্ধতিতে। আগামী দিনেও হবে বলে আমি মনে করি। দ্য ওয়াল: কোভিডের সময়ে হার্ট ভাল রাখার জন্য আমাদের কী করণীয়? ডক্টর: কোভিড পরবর্তী পর্যায়ে হার্ট ভাল রাখতে হলে লাইফস্টাইলে নজর দিতে হবে অতি অবশ্যই। লকডাউনের এই এতগুলো মাস ঘরেই থেকেই। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করেছেন অনেকে। বাড়িতে বসে খাওয়াদাওয়া প্রচুর হয়েছে, শরীরচর্চা তুলনায় কম হয়েছে। যার ফলে স্থূলত্ব বা ওবেসিটির শিকার হয়েছেন অনেকে। এই ওবেসিটি হল হার্টের রোগের অন্যতম বড় রিস্ক ফ্যাক্টর। তাই আমি বলব, পুষ্টিকর খাবারে বেশি গুরুত্ব দিন। শরীরচর্চা খুবই জরুরি। দিনে কম করেও ১৫-৪০ মিনিট এক্সারসাইজের প্রয়োজন। আমি আরও একটা কথা বলি, কম করে খান। মানে আপনার যতটা খিদে তার অর্ধেকটা রেখেই খাবার খান। তুলনায় কাজ বেশি করুন। তাহলেই শরীর সক্রিয় থাকবে। আর শরীর সক্রিয় থাকা মানেই হার্ট তরতাজা থাকবে। কোভিড পরবর্তী পর্যায়ে শরীর সুস্থ রাখা এবং হার্টকে চনমনে রাখাই বেশি জরুরি।

```