
শেষ আপডেট: 17 November 2020 18:30
প্রেগনেন্সি কিটের মতোই পেপার-স্ট্রিপ, তবে এর কাজ অসাধারণ। কম সময়ে নির্ভুল ভাবে সংক্রমণ পরীক্ষা করা যাবে এই টেস্ট কিটে। বিজ্ঞানীদের দাবি, খরচও পড়বে সাধ্যের মধ্যেই। কোনও জটিল প্রযুক্তি বা ভারী মেশিনের দরকার পড়বে না। শুধুমাত্র রঙের বদল দেখেই ভাইরাস পজিটিভ না নেগেটিভ সেটা বলে দেওয়া যাবে। প্যাথোলজি ল্যাবেও কাজে লাগবে এমন টেস্ট কিট। সবচেয়ে বড় কথা, নির্ভুল রেজাল্ট দেবে এই কিট।


জিন এডিটিং মানে হল কোনও নির্দিষ্ট জিনকে চিহ্নিত করে তাকে কাটাছেঁড়া করা। অর্থাৎ সেই জিনে যদি কোনও খারাপ কিছু থাকে তাকে ছেঁটে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় সঠিক জিনকে বসিয়ে দেওয়া। এখন কোভিড টেস্টের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে এমন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে যা রোগীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে। সহজভাবে বলতে গেলে, এই ফেলুদা দেখতে খুবই সাধারণ পেপার-স্ট্রিপ কিট, তবে তারই মধ্যে লুকিয়ে আছে আধুনিক জিন এডিটিং টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্রিসপার জিন-এডিটিং (CRISPR gene-editing technology) পদ্ধতিতে আরএনএ সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনকে চিহ্নিত করা হবে।
ক্রিসপার জিন এডিটিং এমন একটা পদ্ধতি যা নির্দিষ্ট জিন সিকুয়েন্সকে শনাক্ত করতে পারে। অর্থাৎ সেই জিনের বিন্যাস কেমন সেটা খুব কম সময়ে চিহ্নিত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জিন এডিট করতে ক্রিসপার-ক্যাস-৯ ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের সাহায্য নেওয়া হয়। নমুনার মধ্যে যদি ভাইরাল জিন থাকে তাহলে তার সঙ্গে এই প্রোটিনের যোগাযোগ ঘটলেই স্ট্রিপের উপর একটা লাইন ফুটে ওঠে। এতে বোঝা যায় স্ট্রিপটি ঠিক মতো কাজ করছে। এর পরে যদি দ্বিতীয় একটি লাইন ফুটে ওঠে এবং রঙের বদল হয় তাহলে বুঝতে হবে সেই নমুনা পজিটিভ। অর্থাৎ যাঁর নমুনা তিনি করোনা সংক্রমিত। এই দ্বিতীয় লাইন দেখা না দিলে বুঝতে হবে ওই নমুনা নেগেটিভ।
গবেষক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেছেন, স্ট্যানফোর্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ক্যাস-১২ ও ক্যাস-১৩ প্রোটিন নিয়ে কাজ করা হয়, যা আরও ব্যয়সাপেক্ষ ও জটিল পদ্ধতি। কিন্তু এই টেস্ট কিটে ক্যাস-৯ প্রোটিনেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। কম খরচে ও কম সময়ে সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
সিএসআইআর-আইজিআইবির ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল বলছেন, বিদেশি আরটি-পিসিআর টেস্টে অনেক বেশি সময় লাগে। এই টেস্ট কিটও সংখ্যাও অনেক কম। এক একটা আরটি-পিসিআর মেশিনের দামই ১৪-১৫ লাখ টাকা। আর এই পেপার স্ট্রিপ টেস্ট কিটের সুবিধা হল, যে কোনও প্যাথোলজি ল্যাব, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ছোট ক্লিনিকেও দিব্যি পরীক্ষা করা যায়। লেভেল-২ বা লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরি বা ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের দরকার পড়ে না।
ছবি সৌজন্যে: ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তী