Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

করোনা ধরতে আসছে ‘ফেলুদা’, বাঙালি বিজ্ঞানীদের টেস্ট কিট ৯৮% সফল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষমেশ করোনা ভাইরাসকে হাতেনাতে ধরবে ফেলুদাই। তার মগজাস্ত্রেই কব্জা করা যাবে কোভিড সংক্রমণকে। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদাই বটে, তবে সে মানুষ নয়। পেপার-স্ট্রিপ। করোনার সংক্রমণ ধরবে এমন একটি টেস্ট-কিট।  সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা চরিত্রকে

করোনা ধরতে আসছে ‘ফেলুদা’, বাঙালি বিজ্ঞানীদের টেস্ট কিট ৯৮% সফল

শেষ আপডেট: 17 November 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষমেশ করোনা ভাইরাসকে হাতেনাতে ধরবে ফেলুদাই। তার মগজাস্ত্রেই কব্জা করা যাবে কোভিড সংক্রমণকে। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদাই বটে, তবে সে মানুষ নয়। পেপার-স্ট্রিপ। করোনার সংক্রমণ ধরবে এমন একটি টেস্ট-কিট।  সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা চরিত্রকেই নিজেদের গবেষণার অস্ত্র করেছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট অব জেনোমিক্স এবং ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির (CSIR-IGIB) দুই বাঙালি বিজ্ঞানী ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তী ও ডক্টর সৌভিক মাইতি। তাঁদের গবেষণার ফসলই হল ‘ফেলুদা পেপার স্ট্রিপ’ যা এতদিন ট্রায়ালের পর্যায়ে ছিল। এই ট্রায়ালের ফল সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ইনস্টিটিউট অব জেনোমিক্স এবং ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির ল্যাবরেটরিতে দু’হাজার জন কোভিড রোগীর সংক্রমণ চিহ্নিত করতে এই পেপার স্ট্রিপ টেস্ট কিট ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, এই ট্রায়ালের রিপোর্ট খুবই ভাল। টেস্ট কিট ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ ধরতে সফল, ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ভুল রেজাল্ট দিয়েছে। ফেলুদা টেস্ট কিটের ট্রায়ালে আগেই সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল, এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অনুমোদনে এই টেস্ট কিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে চলেছে দেশে। সূত্রের খবর, আগামী দশ দিনের মধ্যেই এই টেস্ট কিটের প্রয়োগ শুরু হয়ে যাবে দেশে। প্রেগনেন্সি কিটের মতোই পেপার-স্ট্রিপ, তবে এর কাজ অসাধারণ। কম সময়ে নির্ভুল ভাবে সংক্রমণ পরীক্ষা করা যাবে এই টেস্ট কিটে। বিজ্ঞানীদের দাবি, খরচও পড়বে সাধ্যের মধ্যেই। কোনও জটিল প্রযুক্তি বা ভারী মেশিনের দরকার পড়বে না। শুধুমাত্র রঙের বদল দেখেই ভাইরাস পজিটিভ না নেগেটিভ সেটা বলে দেওয়া যাবে। প্যাথোলজি ল্যাবেও কাজে লাগবে এমন টেস্ট কিট। সবচেয়ে বড় কথা,  নির্ভুল রেজাল্ট দেবে এই কিট।

বাঁ দিক থেকে, ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তী ও ডক্টর সৌভিক মাইতি

ফেলুদা কিটে ক্রিসপার টেকনোলজি

ক্রিসপার জিন এডিটিং টেকনোলজিতেই এবার নোবেল পেয়েছেন দুই মহিলা বিজ্ঞানী। বিশ্বজুড়েই জিনবিদ্যায় এই প্রযুক্তির প্রয়োগ চলছে। বিজ্ঞানী দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেছেন, ফেলুদা ‘FELUDA’ মানে হল FNCAS9 এডিটর-লিমিটেড ইউনিফর্ম ডিটেকশন অ্যাসে (FNCAS9 Editor-Limited Uniform Detection Assay)। জিন এডিটিং মানে হল কোনও নির্দিষ্ট জিনকে চিহ্নিত করে তাকে কাটাছেঁড়া করা। অর্থাৎ সেই জিনে যদি কোনও খারাপ কিছু থাকে তাকে ছেঁটে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় সঠিক জিনকে বসিয়ে দেওয়া। এখন কোভিড টেস্টের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে এমন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে যা রোগীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে।  সহজভাবে বলতে গেলে, এই ফেলুদা দেখতে খুবই সাধারণ পেপার-স্ট্রিপ কিট, তবে তারই মধ্যে লুকিয়ে আছে আধুনিক জিন এডিটিং  টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্রিসপার জিন-এডিটিং (CRISPR gene-editing technology) পদ্ধতিতে আরএনএ সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনকে চিহ্নিত করা হবে। ক্রিসপার জিন এডিটিং এমন একটা পদ্ধতি যা নির্দিষ্ট জিন সিকুয়েন্সকে শনাক্ত করতে পারে। অর্থাৎ সেই জিনের বিন্যাস কেমন সেটা খুব কম সময়ে চিহ্নিত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জিন এডিট করতে ক্রিসপার-ক্যাস-৯ ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের সাহায্য নেওয়া হয়। নমুনার মধ্যে যদি ভাইরাল জিন থাকে তাহলে তার সঙ্গে এই প্রোটিনের যোগাযোগ ঘটলেই স্ট্রিপের উপর একটা লাইন ফুটে ওঠে। এতে বোঝা যায় স্ট্রিপটি ঠিক মতো কাজ করছে। এর পরে যদি দ্বিতীয় একটি লাইন ফুটে ওঠে এবং রঙের বদল হয় তাহলে বুঝতে হবে সেই নমুনা পজিটিভ। অর্থাৎ যাঁর নমুনা তিনি করোনা সংক্রমিত। এই দ্বিতীয় লাইন দেখা না দিলে বুঝতে হবে ওই নমুনা নেগেটিভ। গবেষক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেছেন, স্ট্যানফোর্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ক্যাস-১২ ও ক্যাস-১৩ প্রোটিন নিয়ে কাজ করা হয়, যা আরও ব্যয়সাপেক্ষ ও জটিল পদ্ধতি। কিন্তু এই টেস্ট কিটে ক্যাস-৯ প্রোটিনেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। কম খরচে ও কম সময়ে সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। সিএসআইআর-আইজিআইবির ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল বলছেন, বিদেশি আরটি-পিসিআর টেস্টে অনেক বেশি সময় লাগে। এই টেস্ট কিটও সংখ্যাও অনেক কম। এক একটা আরটি-পিসিআর মেশিনের দামই ১৪-১৫ লাখ টাকা। আর এই পেপার স্ট্রিপ টেস্ট কিটের সুবিধা হল, যে কোনও প্যাথোলজি ল্যাব, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ছোট ক্লিনিকেও দিব্যি পরীক্ষা করা যায়। লেভেল-২ বা লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরি বা ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের দরকার পড়ে না।

ছবি সৌজন্যে: ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তী


```