দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়ার্ক ফ্রম হোমের দুনিয়াতে সারাদিন ল্যাপটপ বা ফোনে চোখ রেখে কাজ করার জন্য চোখ পিটপিট করা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখ পিটপিট করলে অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এটা চোখের নীচের পাতাকেও প্রভাবিত করে। চোখের পাতাও অনেক সময় কুঁচকে যায়। চোখের এই পিটপিট বেশিদিন স্থায়ী হয় না। তবে অনেক সময় এই চোখের সমস্যাটা সপ্তাহ খানিক থাকে বা কখনও কখনও মাসখানেকও থাকে।যদি চোখ পিটপিট দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার। অনেক সময় নার্ভের সমস্যা থাকলেও এই ধরনের চোখ পিটপিট হতে পারে।
চোখ পিটপিটের অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হল:
১. স্ট্রেস
২. ক্লান্তি
৩. চোখের স্ট্রেন
৪. ক্যাফিন
৫. অ্যালকোহল
৬. শুকনো চোখ
৭. পুষ্টির সমস্যা
৮. অ্যালার্জি
কখনও কখনও আপনার ডায়েটে, জীবনযাত্রাতে সামান্য কিছু পরিবর্তন করলেই মুক্তি মিলতে পারে এই সমস্যা থেকে। কীভাবে করবেন, তার জন্য একটা তালিকা রইল।
১. স্ট্রেস
স্ট্রেসের জন্যই বেশিরভাগ সময় চোখ পিটপিট করে। যোগব্যায়াম, শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম, বন্ধুবান্ধব বা পোষ্যের সঙ্গে সময় কাটালে স্ট্রেস অনেকটা কমে যায়। কাজের মাঝে মাঝে একটু বিরতি নেওয়া দরকার, তাহলে মানসিক চাপ অনেকটা কমে যায়। তাহলেই চোখের পিটপিট বন্ধ হলেও হতে পারে।
২. ক্লান্তি
অনেক সময় কাজের চাপও আপনাকে ট্রিগার করতে পারে। এর জন্য ঘুমও ঠিক মতো হয় না, ফলে ক্লান্তির জন্ম হয়। প্রতিদিন রাতে ৬-৮ ঘণ্টা ভাল করে ঘুমোলেও কমে যেতে পারে চোখের পিটপিট।
৩. চোখের স্ট্রেন
কম্পিউটার, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলেও চোখে স্ট্রেন পড়ে। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়া দরকার। চোখ ২০ সেকেন্ডের বেশি ডিজিটাল স্ক্রিনে কোনও কিছু ফোকাস করতে পারে না।
৪. ক্যাফিন
অতিরিক্ত ক্যাফিনও চোখের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। কফি, চা, চকোলেট, সফ্ট ড্রিংক অতিরিক্ত খেলেও চোখের সমস্যা হতে পারে। তাই এগুলোর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাই ভাল।
৫. অ্যালকোহল
বিয়ার, ওয়াইন, অ্যালকোহল চোখের বহু ক্ষতি করে। এগুলো নিয়মিত খাওয়া বন্ধ করে দিলে চোখের পলকের পিটপিট বন্ধ হতে পারে।
৬. ড্রাই আই বা শুকনো চোখ
বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি হয়। ৫০ বছরের ওপরে ব্যক্তিদের চোখ পিটপিটের সমস্যা বেশি হয়। তার ওপরে যাঁরা কম্পিউটারের কাজ করেন, বা অ্যালকোহল পান করেন তাঁদের এই সমস্যার সম্মুখীন সব থেকে বেশি হয়।
৭. পুষ্টির সমস্যা
ম্যাগনেসিয়ামের অভাবেও চোখের এই সমস্যা হতে পারে। আপনার ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার রাখার প্রয়োজন। তাহলে চোখ পিটপিট করা অনেকটা কমে যেতে পারে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
৮. অ্যালার্জি
অ্যালার্জি, চুলকানি, ফোলাভাবের জন্যও সমস্যা হতে পারে। কান্নাকাটি করলেও চোখের পলক পিটপিট করা বেড়ে যেতে পারে।