
শেষ আপডেট: 22 July 2023 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে ঘরে জয় বাংলা। চোখ লাল, জল পড়ছে অনবরত। কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis) ভীষণ রকম বেড়ে গেছে। অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। ছোট থেকে বড়, সবার মধ্যেই দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে এই চোখের অসুখ। বাড়িতে একবার কেউ আক্রান্ত হলে বাকিরাও এই রোগের খপ্পরে পড়ছেন। চোখ ফুলে লাল হয়ে ওঠা, যন্ত্রণা, ক্রমাগত চোখ থেকে জল পড়া এই রোগের লক্ষণ।
কনজাংটিভাইিস (conjunctivitis) নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও আছে। অনেকের বিশ্বাস কারও ‘জয় বাংলা’ হলে তার চোখের দিকে তাকাতে নেই। তার চোখের দিকে তাকালে যে তাকিয়েছে তারও একই রোগ হতে পারে। কিন্তু আদৌ কি এ কথা ঠিক?
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসুখ নিয়ে জনমানসে সতর্কতা তেমন নেই, বরং বিভ্রান্তিই রয়েছে বেশি। অনেকেই মনে করেন, কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis) বা জয় বাংলায় আক্রান্ত কোনও রোগীর চোখের দিকে তাকালেই নাকি এই অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে! আর সেই কারণেই আক্রান্তকে ঘর থেকে বেরতে মানা করা হয়। এমনকী তাঁকে অন্য কারও চোখের দিকে না তাকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এটা আদৌ সত্যিই নয়। কনজাংটিভাইটিস হল ভাইরাসঘটিত রোগ। চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভাকে আক্রান্ত করে এই জীবাণু। রোগীর চোখের দিকে তাকালে রোগ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।

কনজাংটিভাইটিস হল কনজাংটিভার ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ। কনজাংটিভা হল চোখের স্বচ্ছ লেয়ার বা স্তর, অর্থাৎ চোখের সাদা অংশের ওপরের আস্তরণ। কর্নিয়ার মার্জিন থেকে স্ক্লেরা এবং আই লিডের পেছনের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই কনজাংটিভা। আসলে এই অসুখের পিছনে রয়েছে অ্যাডিনোভাইরাসের কারাসাজি। অ্যাডিনোভাইরাস কনজাংটিভায় সংক্রমণ ছড়ায়, সেখানে বংশবিস্তার করে সংখ্যায় বাড়ে। ফলে চোখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে, চুলকানি শুরু হয় চোখে।
১. চোখ লাল হয়ে ফুলে যায়।
২. চোখ কটকট করে।
৩. জ্বালা করে।
৪. চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে।
৫. চোখে সব সময় একটা অস্বস্তি ভাব থাকে।
৬. ডিসচার্জ বেশি হলে দৃষ্টিও কিছুটা কমতে পারে।

৭. কিছু কিছু কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis), যেমন ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসে চোখে এতটাই ডিসচার্জ থাকে যে, ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা জুড়ে যেতে পারে। চোখে সামান্য ব্যথাও হতে পারে।
৮. আলোর দিকে তাকালে সমস্যা হতে পারে।
৯. জল পড়া এবং চোখ কটকট করাটাই কনজাংটিভাইটিসে প্রধান সমস্যা।
১. কনজাংটিভাইটিস বা চোখের যে কোনও সমস্যায় কখনওই বারবার চোখে হাত দেবেন না।
২. প্রয়োজন হলে কোনও টিস্যু দিয়ে চোখ মুছলে, সেটা ফেলে দিন। ওটা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করবেন না। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩. অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসে প্রকাশ্য স্থানে যাওয়ায় কোনও বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু ব্যাকটিরিয়াল বা ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস হলে না যাওয়াই ভাল। তখন বিশ্রামে থাকাই ভাল।
৪. কনজাংটিভাইটিস হলে স্যুইমিং পুলে না যাওয়াই ভাল।
৫. কখনও স্টেরয়েড ড্রপ দেবেন না। সাময়িক আরাম লাগলেও সারতে সময় নেবে।
৬. অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে শুতে হবে। তাতে পিচুটির জন্য চোখ আটকে যাবে না।