দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার। বর্তমানের সবচেয়ে বড় সমস্যা এই মারণ রোগ। আর একে রোখার একমাত্র উপায় হিসেবে কেমোথেরাপির কথাই আমাদের সবার জানা। কিন্তু এক মার্কিন গবেষণা বলছে, প্রতি বছর যত সংখ্যক মহিলা স্তনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তাঁদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ মহিলার শরীরে প্রয়োজন হয় না এই কেমোথেরাপি।
ভ্যানডারবিল্টি ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের ডঃ ইনগ্রিড এ মায়ার জানিয়েছেন, হাজার হাজার মহিলাকে কেমোথেরাপির হাত থেকে এ বার রক্ষা করা সম্ভব হবে। শুধু খরচই নয় কমবে রোগীর শারীরিক এবং মানসিক কষ্টও।
এই গবেষণায় ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, কেমোথেরাপির বদলে কেবল ওষুধের ব্যবহারেই সমাধান হবে সমস্যার। ট্যামক্সিফিন জাতীয় এই ওষুধের সাহায্যে শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের গ্রোথ কমানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, এই এন্ডোক্রিন থেরাপির সাহায্যে পরর্বতী সময়ে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
কেমোথেরাপির প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে যায়। বমি পায়। আসে শারীরিক ক্লান্তি। এমনকী কেমোর প্রভাবে রোগীরা লিউকেমিয়াতেও আক্রান্ত হন। আর তাই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মুক্তির জন্যই আবিষ্কার হয়েছে এই নতুন পথ। যার নাম ‘ট্রায়াল অ্যাসাইনিং ইন্ডিভিজুয়ালাইজড অপশনস ফর ট্রিটমেন্ট’।
১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রায় ১০ হাজার মহিলার উপর গবেষণা চালানো হয়েছে। দেখা গিয়েছে, এদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ রোগী কেমোথেরাপির পর উপকার পেয়েছেন। ১৭ শতাংশ মহিলার কেমো নিয়ে কার্যত কোনও শারীরিক উন্নতি হয়নি।
তবে গবেষকদের নজরে ছিলেন বাকি ৬৯ শতাংশ মহিলা। গবেষকদের মতে এই মহিলারা অনায়াসেই এড়াতে পারেন কেমোথেরাপি। মুক্তি পেতে পারেন কেমোর পরর্বতী সমস্যাগুলি থেকে। শ তাই নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এইসব ক্যানসার আক্রান্ত মহিলারা মুক্তি পেতে পারেন এই মারণরোগ থেকেও।