
শেষ আপডেট: 15 November 2023 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইফোঁটা মানেই কব্জি ডুবিয়ে ভালমন্দ খাওয়া আর সঙ্গে মিষ্টি। সকালে ছাঁকা তেলে ভাজা লুচি তো দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে বিরিয়ানি, আবার রাতে চাইনিজ। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। অম্বল, গলার কাছে জ্বালা ভাব, বুক জ্বালায় ভোগান্তি বাড়ে। তারিয়ে তারিয়ে রসাস্বাদন করতে গিয়ে কখন যে পেট রসাতলে যেতে থাকে তা বোঝেন কতজনে! গলা অবধি ঝালেঝোলে অম্বলে খেয়ে তারপর গলা জ্বালায়। হাঁসফাঁস করাটা মোটেও কাজের কথা নয়। যে খাবারই খান না কেন, বুঝে না খেলেই সুস্থ শরীর ব্যস্ত হবে।
এলাহি আয়োজনে বাদ পড়ে না কিছুই। একইসঙ্গে মুরগি-মটন, ইলিশ-চিংড়ি, পার্শে-পাবদার সঙ্গেই নানারকম তরকারি, মুড়িঘণ্ট, ভাজাভুজি, শেষ পাতে আবার চাটনি, পায়েস বা দই, মিষ্টি, আম-লিচু বাদ যায় না কিছুই। নানা ধরনের গুরুপাক খাবার একসঙ্গে খেলে বদহজমের ঝুঁকি থাকে। শরীরে অস্বস্তি হয়, পরের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে।
পেট ভরে খান ক্ষতি নেই, কিন্তু এর পরের ধাক্কাটা সামলানোই যা ঝক্কি। ভূরিভোজ তো পেটে গেল, এবার? অম্বল-বুক জ্বালা, অ্যাসিডিটি, পেট গুরগুর, পেট খারাপ বাদ যায় না কিছুই। যাদের আবার কোলেস্টেরল বেশি, হজমের সমস্যা আছে বা ডায়াবেটিসের ফাঁস গলায় লাগিয়ে ঘুরছেন, তাঁদের অবস্থা আরও তথৈবচ। তখন মুঠো মুঠো ওষুধ খাও রে, ডাক্তার-বদ্যি ডাকো রে, সে হরেক জ্বালা!
মন যা চায় খান তবে নিয়ম মানুন
ভরপেট খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরে জল খান। মাছ-মাংস ভরপুর খাওয়ার পরে শরবত, কোল্ড ড্রিঙ্কস না খাওয়াই ভাল।
ডুবো তেলে পাঁচ থেকে দশ রকম ভাজা খেয়ে হাঁসফাঁস করলে কোলার বদলে বরং লেবু-জল খেয়ে নিন।
খাবার পরেই ভাতঘুম দেবেন না। বরং একটু হাঁটাচলা করে নিন। অন্তত ৪৫ মিনিট সোজা হয়ে বসুন, পারলে হেঁটে আসুন।
একদিন অস্বাভাবিক খেয়ে ফেলেছেন, এরপর একটু বুঝে খান। পরপর দু'দিন অন্তত হাল্কা খান। পাতলা মাছের ঝোল, ডালের জল খেতে পারেন। ভাত এক কাপের বেশি নেবেন না। প্রচুর গ্রিন স্যালাড খান। শশার রস পেট ঠান্ডা রাখে। পরের দুই থেকে তিন দিন বেশি ভাজাভুজি একদম নয়। পারলে মিষ্টি খাওয়া কিছুদিনের জন্য বন্ধ করুন। কেক-পেস্ট্রি-রোল-চাউমিন দেখলে চোখ বন্ধ করে থাকবেন।
খাবার পরে মৌরী-মিছরির জল খান, এতে পেট ঠান্ডা থাকবে। ঘণ্টা খানেক আগে ভিজিয়ে রাখবেন।
ডায়েট মানছি না মানেই গলা অবধি খেয়ে ফেলবেন না। যা পছন্দ তাই খান কিন্তু পরিমাণে লাগাম টানুন। সবই খান তবে রয়ে সয়ে।