
শেষ আপডেট: 27 September 2020 18:30
জীবনের খুচরো রোগ থেকে জটিল অসুখ সারাতে নিমের গুণাগুনের তারিফ করেন চিকিৎসকরাও। ভারতীয় আয়ুর্বেদে নিমের বহুগুণের কথাই বলা হয়েছে। নিমের পাতা, ডাল, নিমের রস সবেরই কোনও কিছুই ফেলার নয়।
বিশ্বজুড়েই নিমের কদর। নিম গাছ, শিকড়, নিম ফল, গাছের ছাল ওষুধের দরকারি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ আছে নিমের। ম্যালেরিয়া নিরাময় করতে পারে আবার দাঁতের চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়।
নিম তেলে আছে ট্রাইগ্লিসারাইড, ট্রাইটারপিনয়েড ও কীটনাশক অ্যাজাডিরাকটিন যৌগ। যে কোনও প্রদাহজনিত রোগ কমাতে নিম তেল ব্যবহার করা হয়। গর্ভনিরোধক হিসেবেও নিমতেল ব্যবহার করা হয়।
নিম গাছের শিকড় থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরি হয়।
নিমের যেমন জীবাণুনাশক ক্ষমতা আছে, তেমনই এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের টক্সিনকে দূর করে তাকে সুস্থ-সবল রাখে। নিম পাতা বেটে লাগালে যেমন ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ দূর হয়, তেমনই নিম পাতা খেলেও অনেক অসুখ সারে।
সোরিয়াসিস কমাতে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকের সংক্রমণজনিত রোগ সোরিয়াসিস কমাতে পারে নিম। নিম পাতার নির্যাস ১২ সপ্তাহ ধরে খেয়ে গেলে উপকার মেলে। তার সঙ্গে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ক্রিমের প্রয়োগও দরকার। তাছাড়া ত্বকের চুলকানি, অ্যালার্জি বা যে কোনও সংক্রমণজনিত রোগ কমাতে নিমের ব্যবহার হয় ভেষজ চিকিৎসায়।
রক্তে শর্করা কমায়
নিম পাতার রস রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। রক্তনালীকে প্রসারিত করে, শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। নিম পাতা ও গোলমরিচ একসঙ্গে বেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
চুল ভাল রাখে
নিমের জীবাণুনাশক গুণ খুশকি দূর করে সহজেই। শুকনো স্কাল্পের সমস্যায় খুব উপকারী নিম। আবহাওয়া বদলের সঙ্গে স্কাল্পের পিএইচ-এর ভারসাম্য হেরফের হয়। ফলে চুল কখনও তৈলাক্ত হয়, আবার কখনও শুষ্ক। সঙ্গে বাড়ে খুশকির সমস্যা। এই সমস্যা দূর করতে নিম পাতার নির্যাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ওজন কমায়
নিম ফুলের রস ওজন কমাতে সাহায্য করে। নিম ফুল বিপাকের হারও বাড়ায়। নিম ফুল গুঁড়ো করে তার সঙ্গে এক চামচ মধু ও আধ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে মেদ ঝরে সহজেই।
রক্ত পরিষ্কার করে
নিমের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ক্ষমতা প্রচুর। শরীরের টক্সিন দূর করে রক্তকে শুদ্ধ রাখতে বিশেষ উপকারী নিম। এ জন্যই রোজকার খাবারের তালিকায় নিম রাখলে উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতা ভাজা বা নিম দিয়ে তেতো তরকারি খেতে পারলে খুব ভাল। নিমের রস সকালে খালি পেটে খেলেও উপকার মেলে।
জন্ডিস কমায়
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জন্ডিস হলে সকালে নিম পাতার রস মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। ২৫ থেকে ৩০ ফোঁটা নিম পাতার রসের সঙ্গে মধু মেশাতে হবে। সপ্তাহখানেক খেলেই রোগ কমতে শুরু করবে।
নিম অ্যান্টিভাইরাল
আগেকার দিনে চিকেন পক্স, হাম বা চর্মরোগ হলে নিম পাতা বেটে লাগানোর রেওয়াজ ছিল। এখনও ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে নিমের রস লাগানো বা নিম জলে স্নান করতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। নিমের অ্যান্টিভাইরাল গুণ আছে। নিমের রস খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে।