
শেষ আপডেট: 30 December 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর এবং মনের সঠিক মিলমিশই সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্কের চাবিকাঠি, সে লিভ ইন হোক বা বিবাহিত সম্পর্ক। এই কথা একবাক্যে স্বীকার করেছেন মনস্তত্ত্ববিদরাও। সুস্থ যৌনতা কেবল সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে তাই নয়, মানসিক অবসাদ দূর করে, জীবনীশক্তি বাড়ায়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, যৌন জীবনে নিরাসক্তি ও বিছানায় অনীহা বিশ্বের প্রায় সব দেশের দম্পতিদের মধ্যেই দেখা দিচ্ছে। স্ট্রেসফুল লাইফস্টাইল, কাজের চাপ, সময়ের অভাব, এই নিরাসক্তির পিছনে কারণ ভূরি ভূরি। তবে শুধু পারিপার্শ্বিক কারণ নয়, যৌন মিলনে অনীহা তৈরি হয় অধিকাংশ মহিলারই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহিলাদের সঙ্গমে আসক্তি চলে যাওয়ার পিছনে নানা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ পাঁচটি কারণ বিশ্বের প্রায় সব মহিলাদের মধ্যেই দেখা যায়।
মহিলাদের সেক্সের প্রতি অনাসক্তি বা আগ্রহ কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ফিমেল সেক্সুয়াল ডিসফাংশন’ (FSD)। এর নানা কারণ রয়েছে।
প্রথমত বলা যেতে পারে, পার্টনারের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব না করা বা মিলনের ইচ্ছা একেবারেই চলে যাওয়া। নব বিবাবিত দম্পতিদের মধ্যেও এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটা একরকম শারীরিক ও মানসিক ব্যধি যাকে চিকিৎসাশাস্ত্রে বলে ‘হাইপোঅ্যাকটিভ সেক্সুয়াল ডিসায়ার ডিসঅর্ডার’(Hypoactive sexual desire disorder (HSDD) অথবা ইনহিবিটেড সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার (inhibited sexual desire (ISD)) ।
কেন হয় এই রোগ? গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা এই রোগের কারণ হতে পারে। তা ছাড়া, শারীরিক ব্যধিও এইচএসডিডি-র কারণ। যার মধ্যে ডায়াবেটিস বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস অন্যতম। স্নায়ুঘটিত রোগও এই ডিসঅর্ডারের কারণ হতে পারে। এই ডিসঅর্ডার দূর করতে সাইকোথেরাপি ও মেডিকেশনের সাহায্য নেন চিকিৎসকরা।
সঙ্গমের সময় যৌনাঙ্গে যন্ত্রণা মহিলাদের যৌন মিলনের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত মেনোপজের পর মহিলাদের শরীর থেকে যৌন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ অনেক যায়। ফলে সঙ্গমের সময় যোনিপথে প্রদাহজনিত ব্যথায় ভোগেন অধিকাংশ মহিলা। যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার এটাও একটা কারণ।
যে কোনও বয়সের মহিলাদেরই এই ডিসঅর্ডার হতে পারে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরণের ইরেকটাইল ডিসফাংশন। এই ডিসঅর্ডার হলে, সঙ্গমের সময় স্ত্রী যৌনাঙ্গ উত্তেজনায় সাড়া দিতে পারে না। যৌনাঙ্গে রক্ত সঞ্চালনও অনেক কমে যায়। ফলে ব্যাহত হয় যৌন মিলন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পেলভিক মাসলের সঠিক ব্যায়াম এই রোগকে দূরে রাখতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বেশিরভাগ মহিলাই ছোটবেলায় নানা কারণে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। অনেক সময়েই দেখা গেছে, পরিবারের কোনও সদস্যের কাছ থেকেই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন মহিলারা। সেই কারণেও ট্রমা তৈরি হতে পারে মনে। তাতে যৌন মিলনের ইচ্ছা অনেক কমে যায়। ভয় ও আতঙ্ক গ্রাস করে মনকে। ম্যারিটাল রেপ বা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন যে সহ মহিলারা তাঁদেরও অনেক সময় সঙ্গমের প্রতি অনীহা তৈর হয়। এই ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য সাইকোথেরাপির দরকার পড়ে।
গবেষকরা বলছেন, চূড়ান্ত যৌন উত্তেজনার সময় অর্গাজম হয় না এমন মহিলার সংখ্যা ১০-২০ শতাংশ। এই সমস্যার পোশাকি নামই অ্যানঅর্গাজমিয়া। শুধু মহিলারা নন, একই সমস্যা দেখা যায় পুরুষদের মধ্যে। তবে, মেয়েদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা অনেক বেশি। সেক্সুয়াল স্টিমুলেশন সত্ত্বেও অর্গাজম না হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ আছে। একটি বড় কারণ, এখনও বহু মহিলারাই যৌনমিলনকে একটা নিয়ম বা দায়িত্ব হিসাবে দেখেন। তাঁরা ভুলে যান যৌনমিলন তাঁদেরকেও মানসিক ও শারীরিক আনন্দ দিতে পারে। নিজেদের ভাল লাগা বা খারাপ লাগা গুলো নিয়ে তাঁরা সহজে মুখ খোলেন না। ফলে মিলনটা তাদের কাছে বহু ক্ষেত্রেই যান্ত্রিক হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে সঙ্গীকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
তা ছাড়া, অ্যানঅর্গাসমিয়ার পিছনে কিছু হরমোনাল বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংকোচ কাটিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন