
শেষ আপডেট: 26 November 2018 18:30
সদ্য দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন নিক। সেখানেই সোনালি বসুর ছবি ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’-এর শ্যুটিং করছেন প্রিয়ঙ্কা। ২৯ নভেম্বর হতে পারে মেহেন্দি ও সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। পরের দিন অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর হবে ককটেল পার্টি। তবে সেটা কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। প্রিয়ঙ্কার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে ১ ডিসেম্বর। ভারতীয় মতে বিয়ে ২ ডিসেম্বর। রিসেপশন পার্টি বা খ্রিষ্টান মতে বিয়ের দিন এখনও প্রকাশ্যে আনেনি প্রিয়ঙ্কা ও নিকের পরিবার।

৩৬ বছরের প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ২৭ বছরের নিকের প্রেম নিয়ে জলঘোলা তো কিছু কম হয়নি, তাঁদের ডেট থেকে হাত ধরে ক্যামেরার সামনে পোজ, রসায়নের মুচমুচে তাজা খবর সবসময়েই থেকেছে শিরোনামে। এখন সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হল তারকা জুটির বিয়ের ভেন্যু। দীপিকা-রণবীর বেছেছিলেন আল্পস পর্বতের কোলে লেক কোমোর ধার ঘেঁষে ইতালির রোম্যান্টিক ওয়েডিং স্পট ‘ভিলা দেল বলবিয়েনেল্লো’, রূপে-গুণে যার কোনও কমতিই নেই। তবে বিয়ের জন্য ‘দেশি গার্ল’ বেছেছেন দেশের মাটিকেই। প্রিয়ঙ্কা ও তাঁর পরিবারের অতি পছন্দের জায়গা রাজস্থানের যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেস। নামেই রাজকীয়, অন্দরে প্রবেশ করলে ইতিহাসের সঙ্গে স্থাপত্যের এক মনকাড়া যুগলবন্দী। সেই সঙ্গে বিলাসব্যসনের অফুরন্ত ভাণ্ডার। পাহাড়ে ঘেরা নীল-সবুজ লেক কোমোর নৈসর্গিক শোভা না থাকুক, মরু শহরে রাজপুতদের বীরত্বের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে স্বগর্বে অতিথিদের আপ্যায়ণ করে উমেদ ভবন।
যোধপুরের মহারাজা উমেদ সিংহের নামেই এই প্রাসাদের নাম উমেদ ভবন প্যালেস। বর্তমানে এই প্রাসাদ তাজ হোটেলের মালিকানাধীন। উমেদ সিংহের নাতি গজ সিংহ এই প্রাসাদের সত্ত্ব তাজ হোটেলকে দিয়ে দেন। প্রাসাদের অন্দরকেই পাঁচ তারা হোটেলের রূপ দিয়ে পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্র করে তুলেছেন তাজ কর্তৃপক্ষ। এটি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাসাদ।
যোধপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চিত্তোর হিলসের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই প্রাসাদ। এ বার ঢুঁ মারা যাক অন্দরমহলে। রাজার প্রাসাদ রাজকীয় চাকচিক্যে ভরপুর। ২৬ একর জমির উপর এই প্রাসাদের ১৫ একরেই বাগান। সবুজের গালিচার মাঝখানে সোনালী-হলুদ স্যান্ডস্টোনের প্রাসাদের অন্দরসজ্জায় রয়েছে মারকানা মার্বেল-বার্মিজ টিক উডের কারুকাজ। প্রাসাদের মেঝে ব্ল্যাক গ্রানাইট পাথরের ও লাউঞ্জ সাজানো হয়েছে পিঙ্ক স্যান্ডস্টোন দিয়ে। প্রাসাদের অন্দরে রয়েছে ৩৪৭টি ঘর এবং একটি বিশাল ব্যাঙ্কোয়েট হল। এতে প্রায় ৩০০ অতিথির আপ্যায়নের জায়গা। তা ছাড়া রয়েছে দুর্বার হল, বিশাল ডাইনিং রুম, বল রুম, লাইব্রেরি, সুইমিং পুল ও স্পা। বিলিয়ার্ড রুম, চারটে টেনিস কোর্ট ছাড়াও রয়েছে দু’টো মার্বেল সজ্জিত স্কোয়াশ কোর্ট। প্রাসাদের আনাচ কানাচে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য স্থাপত্য-ভাস্কর্যের মিশেল। প্যারিসের প্রখ্যাত Beaux-Art এর প্রভাব যেমন দেখা গেছে, তেমনি প্রাসাদের অন্দরসজ্জায় কাম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দিরের ভাস্কর্যের ছাপও সুস্পষ্ট।

উমেদ ভবন প্যালেস তৈরি হয়েছিল যোধপুরের রাথোর সাম্রাজ্যের সময়। এই প্রাসাদ শুধুমাত্র রাজাদের ভোগবিলাসের জন্য তৈরি হয়নি, বরং এর পিছনে রয়েছে এক অন্য ইতিহাস। রাথোর বংশের প্রভাবশালী রাজা প্রতাপ সিংহের ৫০ বছর রাজত্বের শেষে গোটা এলাকায় ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। খাদ্যাভাব ও জলাভাবে মানুষ মরতে শুরু করে। রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়ানক আকার নেয়। রাজসিংহাসনে সে সময় রাথোর বংশের ৩৭ তম রাজা উমেদ সিংহ। প্রজারা তাঁর কাছে গিয়ে প্রাণভিক্ষা করে। প্রজাদের অন্নসংস্থানের জন্য তিনি সে সময় এই প্রাসাদের নির্মাণ শুরু করেন। স্থপতি হেনরি ভন ল্যাঞ্চেস্টারের তত্ত্বাবধানে ১৯২৯ সাল থেকে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ১৪ বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে ওঠে প্রাসাদ। ২০০০-৩০০০ শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমে নির্মাণ শেষ হয় ১৯৪৩ সালে। প্রাসাদটি তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় এক কোটি টাকা।