
উস্তাদ জাকির হুসেন
শেষ আপডেট: 16 December 2024 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৩-এ থামল তবলার জাদুকরের পথচলা। প্রয়াত উস্তাদ জাকির হুসেন। রবিবার আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর এক হাসপাতালে মৃত্যু হয়। সোমবার পরিবারের তরফে বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফিব্রোসিসের সমস্যায় ভুছিলেন তিনি।
রবিবার সন্ধেয় প্রথমে তাঁর অসুস্থতার খবরে হইচই পড়ে সংগীত মহলে। অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক, শুনে অনেকেই প্রার্থনা শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে রবিবারের সন্ধে শুধুই তবলা মায়েস্ত্র। তার কিছুক্ষণ পরই খবর ছড়িয়ে পড়ে তিনি আর নেই। শোকস্তব্ধ হয় সংগীত জগত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তাঁর সমসাময়িক বহু শিল্পীরা শোক প্রকাশ করেন। স্মৃতিচারণা করেন।
রবিবার রাত বাড়তেই আমির আউলিয়া নামের এক ব্যক্তি (যিনি নিজেকে তাঁর ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন) এক্স হ্যান্ডেলে জানান, শিল্পী অসুস্থ কিন্তু তাঁর মৃত্যুর খবর ভুঁয়ো। এই খবরটিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। সকলে আশ্বস্ত হন।
সোমবার ভোর হতেই পরিবারের তরফে জানানো হয়, মৃত্যুর খবরটি সত্যি। বেশ কিছুদিন এই বর্ষীয়ান শিল্পী ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। বাতিল করেছিলেন একাধিক অনুষ্ঠান। ফুসফুসের সমস্যার জন্যই হাসপাতালে ছিলেন। রবিবার অত্যন্ত সংকটজনক হয় তাঁর শারীরিক অবস্থা। রাতের দিকে শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে লেখা হয়, 'একজন শিক্ষক, মেন্টর ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর কাজ অসংখ্য সংগীতশিল্পীর ওপর ছাপ ফেলেছে। পরবর্তী প্রজন্মকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর লক্ষ্য ছিল। তাঁর লিগ্যাসি সকলের মাঝে থেকে যাবে। তিনি নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ।'
জাকির হোসেনকে চেনেন না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে কম। বিশ্ব ধ্রুপদী সঙ্গীতবাদ্যের জগতে তিনি এক নক্ষত্রের নাম। পদ্মশ্রী থেকে শুরু করে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, গ্র্যামি- সব পুরস্কারই রয়েছে উস্তাদের ঝুলিতে। শিল্পীর আচমকা এমন পরিণতিতে শোকের ছায়া সব মহলেই।
১৯৫১ সালে মুম্বইয়ে জন্ম হয় জাকির হুসেনের। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে তাঁর তবলার সফর শুরু। সাত বছর বয়সে একা মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছেন তিনি। শিল্পীর সম্মানে গর্বিত হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সঙ্গীত জগৎও। তবে রবিবার রাতে সব শেষ।
চলতি বছর গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছিলেন জাকির হুসেন। বেস্ট গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম হিসেবে ‘শক্তি’ ব্যান্ডের গানের অ্যালবাম ‘দিস মোমেন্ট’ পুরস্কার পায়। ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন এবং তবলাবাদক ছিলেন তিনি। জুটির হাত ধরেই ২০২৪ সালে ভারতে গ্র্যামি আসে।