নিজে খাওয়ার পাশাপাশি তিনি সেই আমিষ খাবার রেস্তরাঁর কর্মী এবং অন্যান্য গ্রাহকদের দিকেও এগিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অস্বস্তি তৈরি হয় উপস্থিত সকলের মধ্যে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 20 July 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনের এক বিখ্যাত নিরামিষ রেস্তরাঁ ‘গোবিন্দ’-এ ঘটল অদ্ভুত ঘটনা। ইসকন পরিচালিত এই রেস্তরাঁয় হঠাৎ করেই এক ব্রিটিশ যুব ঢুকে পড়েন এবং মাংস পাওয়া যায় কি না জানতে চান। নিরামিষ রেস্তরাঁ জানানো হলে, তিনি হঠাৎই ব্যাগ থেকে কেএফসি-র একটি বাক্স বের করেন এবং মুরগির মাংস খেতে শুরু করেন রেস্তরাঁর ভিতরে বসেই। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত যুবকের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
তবে, এখানেই শেষ নয়। নিজে খাওয়ার পাশাপাশি তিনি সেই আমিষ খাবার রেস্তরাঁর কর্মী এবং অন্যান্য গ্রাহকদের দিকেও এগিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অস্বস্তি তৈরি হয় উপস্থিত সকলের মধ্যে। রেস্তরাঁর কর্মীরা তাঁকে সতর্ক করেন, নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকেন এবং শেষপর্যন্ত বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাঁকে জোর করে রেস্তরাঁ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাটিকে ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি নিছক উগ্রতা, না কি এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষ বা বর্ণবিদ্বেষের কোনও উদ্দেশ্য? ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং একে হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের সামিল বলেই মনে করছেন।
একজন ব্যবহারকারী পোস্টে লেখেন, 'লোকটা সমাজে শুধু অশান্তি ছড়াল। কোনও বড় কিছু করল না, শুধু বিরক্তি সৃষ্টি করল।' আরেকজন মন্তব্য করেন, 'আশা করি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানি না, এ কারণে ওকে গ্রেফতার করা সম্ভব কি না, কিন্তু এটি নিছক ঘৃণার কাজ। ও জানে হিন্দুরা প্রতিশোধ নেবে না, তাই এমন সাহস দেখাতে পেরেছে।'
An African-British man was seen entering ISKCON’s Govinda’s restaurant, a pure vegetarian outlet and deliberately showing off KFC chicken to people inside.
Seriously, this is not just disrespectful, it's a hateful provocation. Strict action should be taken against such… pic.twitter.com/JdyMnGm3ar— sshuklaa (@Picassaa24) July 20, 2025
আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লেখেন, 'তখনই পুলিশকে ডাকেননি কেন? সবাই হাসছে কেন? যদি সাহস না থাকে, তবে অন্যদের সাহায্যের আশা না করাই ভাল।' আর এক জন যোগ করেন, 'এই ধরনের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অপমান সভ্য সমাজে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এটা অসহিষ্ণুতার নগ্ন প্রদর্শন।'
উল্লেখ্য, ইসকন বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস হল এক আধ্যাত্মিক সংস্থা, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। ১৯৬৬ সালে গঠিত এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার, যা প্রেম, সহানুভূতি ও আত্ম উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক জীবনদর্শন। সংস্থার অধীনে পরিচালিত ‘গোবিন্দ’ রেস্তরাঁগুলিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিরামিষ খাদ্য পরিবেশন করা হয় এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়।
এই ঘটনার পর সেই ভাবমূর্তি ও ধর্মবিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে ইচ্ছাকৃত আঘাতের অভিযোগ উঠছে, যা ঘিরে চলছে আলোচনা এবং নিন্দার ঝড়। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই ঘটনার নিন্দা করতে একটুও দেরি করেননি সামাজিক মাধ্যমের নাগরিকেরা।