ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2025 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE)-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। ভারতে ভোট দানে হার তথা ভোটার টার্নআউট বাড়াতে এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুদান দিয়েছিল। সেই ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উচ্চ শুল্কের প্রেক্ষাপটে এমন অনুদানের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি না।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। তার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন মন্তব্য নজর কেড়ে নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা কেন ভারতের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি? ওদের প্রচুর অর্থ রয়েছে। ওরা বিশ্বের অন্যতম উচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ। বিশেষ করে আমাদের উপর। আমাদের ওখানে প্রবেশ করাই কঠিন, কারণ ওদের শুল্ক এতটাই বেশি। আমি ভারত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করি, তবে ভোটার টার্নআউটের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার?"
গত রবিবার ডজে ঘোষণা করে যে, তারা সরকারি বাজেট সংস্কারের অংশ হিসেবে ৭২৩ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক অনুদান বাতিল করছে, যার মধ্যে ভারতের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ছিল।
ডজের-এর এই সিদ্ধান্তের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল বলেছিলেন যে, "USAID (মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা) মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা।" তিনি টুইটে লেখেন, "ভারতে ভোটার টার্নআউট বৃদ্ধির জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে ২৯ মিলিয়ন ডলার কে পেল, তা জানার খুব ইচ্ছা আছে।"
ডজে-এর প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন প্রকল্পেও মার্কিন অনুদান বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে নেপালের জন্য ৩৯ মিলিয়ন ডলারের "বৈদেশিক আর্থিক নীতিমালা" ও "জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ" প্রকল্পও রয়েছে।
বিজেপি এই মার্কিন অনুদানকে "ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বহিরাগত হস্তক্ষেপ" বলে মন্তব্য করেছে। বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য এক বলেন, "২১ মিলিয়ন ডলার ভোটার টার্নআউটের জন্য? এটি ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি বৈদেশিক হস্তক্ষেপ। এর থেকে কার লাভ হয়েছে? অন্তত শাসক দলের তো নয়!"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে "সিস্টেমেটিক অনুপ্রবেশ" ঘটানো হচ্ছে। মালব্য বিশেষভাবে মার্কিন ধনকুবের জর্জ সরোস-এর কথা উল্লেখ করেছেন। বিজেপির অভিযোগ, সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় নেমেছে। এও এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্র।