সূত্রের খবর, একটি বৈঠকের মধ্যেই ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁকে অবিলম্বে অবসর নিতে হবে। এমনকি সেনাবাহিনীর অনেক শীর্ষ আধিকারিকও এই সিদ্ধান্ত আগাম জানতেন না—ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

Pete Hegseth ousts US Army Chief Randy George
শেষ আপডেট: 3 April 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে যুঝতে গিয়ে এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংসারেই গৃহদাহ। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা অনেকেই মুখ টিপে হাসছেন। কারণ তাঁরা দেখতে পারছেন, ওয়াশিংটন বলির পাঁঠা খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। তার সর্বশেষ নমুনা দেখা গেল শুক্রবার সকালে। ইরানকে ঘিরে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সেনা দফতরে যেন বাঙ্কার বাস্টার পড়ল।
সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে আচমকা রদবদল করে দিলেন ট্রাম্প তথা তাঁর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। মার্কিন আর্মির চিফ অফ স্টাফ জেনারেল (US Army Chief) পদ থেকে হঠাৎই সরিয়ে দেওয়া হল র্যান্ডি জর্জকে (Randy George)। এই পিট হেগসেথই হলেন ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ নীতির অন্যতম মুখ।
কে এই র্যান্ডি জর্জ?
জেনারেল র্যান্ডি জর্জ মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে কমিশন পাওয়ার পর দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মার্কিন আর্মির চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন—অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার সামরিক প্রধানদের একজন। তাঁর কাজ ছিল সেনাবাহিনীর কৌশল নির্ধারণ, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেওয়া।
এর আগে তিনি আই কোরের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই অধ্যায়ই তাঁকে পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এপিসেন্টারে নিয়ে আসে।
এখন মোক্ষম প্রশ্ন হল, কেন সরানো হল তাঁকে?
সরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্তের স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের জটিল সমীকরণ।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে র্যান্ডি জর্জের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিয়োগ, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
এর পাশাপাশি, জর্জের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের ঘনিষ্ঠতা হেগসেথের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন প্রশাসন অনেক সময় পুরনো ঘনিষ্ঠ মহলকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চায়—এই সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ হতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্তের সময়কাল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হঠাৎ পরিবর্তন অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব সরিয়ে দেওয়া সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিরক্ষা দফতরের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত “পরিকল্পিত বলে মনে হয় না”—বরং তা হঠাৎ এবং চাপের মধ্যে নেওয়া হয়েছে বলেই ধারণা।
ঘটনার নাটকীয় দিকও কম নয়। সূত্রের খবর, একটি বৈঠকের মধ্যেই ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁকে অবিলম্বে অবসর নিতে হবে। এমনকি সেনাবাহিনীর অনেক শীর্ষ আধিকারিকও এই সিদ্ধান্ত আগাম জানতেন না—ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।
বর্তমানে ভাইস চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ক্রিস লানেভে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি হেগসেথের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, ফলে প্রশাসনের নতুন কৌশলের সঙ্গে তাঁর সাযুজ্য বেশি থাকবে বলেই ধারণা। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ এবং ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।