গবেষক দল ১৬৭ জন এমন মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়েছেন, যারা গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাণসংকট থেকে বেঁচে ফিরে এসেছেন। তার পর জানিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা কেমনতর ছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 October 2025 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর মুখোমুখি হলে (near death experience) আসলে কী ঘটে? আলো ঝলমলে সুড়ঙ্গ, নিজের দেহের বাইরে ভেসে থাকার অনুভূতি, এক অদ্ভুত শান্তি — এই অভিজ্ঞতাগুলি অনেকেই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর প্রভাব ঠিক কতটা গভীর হতে পারে, তা এবার তুলে ধরেছে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Virginia) একটি নতুন গবেষণা।
গবেষক দল ১৬৭ জন এমন মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়েছেন, যারা গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাণসংকট থেকে বেঁচে ফিরে এসেছেন। তার পর জানিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা কেমনতর ছিল। এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের (American Psychological Association) জার্নাল সাইকোলজি অফ কনসাসনেস, থিওরি রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিসে( Psychology of Consciousness: Theory, Research and Practice) ।
ফলাফল বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁদের মানসিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। এই অভিজ্ঞতার পর তাঁদের ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে বদল এসেছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি আধ্যাত্মিক হয়েছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুভয়ের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা অনেকের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিলেও এর সব প্রভাব যে ইতিবাচক, তা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণকারীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন— এই অভিজ্ঞতার কথা আশপাশের মানুষকে বোঝাতে না পারায় বা বিশ্বাস করাতে না পারায় তাঁরা মানসিকভাবে একাকী হয়ে পড়েছেন।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ৬৪ শতাংশ মানুষ এই অভিজ্ঞতার পর পেশাদার কাউন্সেলিং বা আধ্যাত্মিক সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে আবার ৭৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে কাউন্সেলিং তাঁদের মানসিক ভার সামলাতে সাহায্য করেছে। তবুও, অনেকেই বলেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে বোঝানো বা গ্রহণযোগ্য করে তোলা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
প্রধান গবেষক মারিয়েতা পেহলিভানোভা (Marieta Pehlivanova) বলেছেন, “এই অভিজ্ঞতা নিয়ে মেডিক্যাল দুনিয়ায় এখনও পর্যাপ্ত মনোযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে এর মানসিক ও সামাজিক প্রভাব অনেক গভীর। চিকিৎসকদের উচিত এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সাহায্যের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
গবেষণাটি স্পষ্ট করে বলছে, মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়া মানে অনেক সময় এক নতুন মানসিক যাত্রার শুরু। কেউ পান নতুন বিশ্বাসের দিশা, কেউ হারান সম্পর্কের মাটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অভিজ্ঞতাগুলি বোঝা এবং সমাজে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা এখন সময়ের দাবি — কারণ এটি শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের মন ও সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি বাস্তবতা।