বোঝা যায়, ইমরান ঠিক কাকে দায়ী করেছিলেন। ইঙ্গিত ছিল সরাসরি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের দিকে। একাধিকবার ‘এক জন ব্যক্তি’ বলতে গিয়ে তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন ইমরান খান।

ইমরান খান এবং আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 28 November 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের রাজনীতিতে (Pakistan Politics) এখন একটাই প্রশ্ন - ইমরান খান (Imran Khan) কোথায় আছেন? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে (EX PM) ঘিরে জল্পনা যত বাড়ছে, ততই অস্থির হয়ে উঠছে তাঁর পরিবার, সমর্থক ও সহকর্মীরা। ৬ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কোনও খবর নেই। এই অস্বাভাবিক নীরবতার মাঝেই ফের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে তাঁর শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের (Last Social Media Post), যা প্রকাশ হয়েছিল ৫ নভেম্বর, রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর।
সেই বার্তাটি আবার পড়লে বোঝা যায়, ইমরান ঠিক কাকে দায়ী করেছিলেন। ইঙ্গিত ছিল সরাসরি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Pakistan Army Chief Asim Munir) দিকে। একাধিকবার ‘এক জন ব্যক্তি’ বলতে গিয়ে তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন ইমরান খান (Imran Khan)। অভিযোগ, পাকিস্তানে এখন সংবিধানের শাসন নয়, চলছে ‘আসিম ল’ (Asim Law) - এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
ইমরানের অভিযোগ ছিল আরও তীব্র। তিনি লিখেছিলেন, দেশের শাসনব্যবস্থা কার্যত এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত এবং সেই ব্যক্তি ক্ষমতা ধরে রাখতে যে কোনও কাজ করতে পারেন! পাশাপাশি এও জানান, চাপ বা নির্যাতনে নত না হওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে নিয়েছেন।
ইমরানের (Imran Khan) বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর যে নজিরবিহীন অত্যাচার হচ্ছে, তার মূলে রয়েছেন মুনিরই। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, মহিলা, প্রবীণ এমনকী শিশুর কথাও নাকি দেখা হচ্ছে না; বিচার প্রক্রিয়াও আটকে দেওয়া হচ্ছে শুধু তাঁকে জেলে রাখার জন্য।
এমতাবস্থায়, ইমরানের পরিবার, বিশেষ করে তাঁর ছেলে কাসিম খান (Kashim Khan), বাবার ‘বেঁচে থাকার’ প্রমাণ দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পোস্ট করে লিখেছেন - ইমরান খানকে জেলে পাঠানো হয়েছে ৮৪৫ দিন আগে। গত দেড় মাস ধরে তাঁকে একেবারে নির্জন ‘ডেথ সেল’-এ (Death Cell) রাখা হয়েছে। পরিবার তো দূরে থাক, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বোনেদের সঙ্গে কোনও সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। বিগত ছ’ সপ্তাহ ধরে ইমরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বোনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকী কোনও ভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করতে দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে জেলবন্দি তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলা চলছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। এ বছরের জানুয়ারিতে একটি দুর্নীতি মামলায় সস্ত্রীক দোষী সাব্যস্ত হন ইমরান।
বৃহস্পতিবার আদিয়ালা জেল প্রশাসন (Adiala Jail) একটি বিবৃতি জারি করে সমস্ত মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি, ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ। তাঁকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়েছে, এই খবর ভিত্তিহীন।