প্রযুক্তি সংস্থাগুলি (Amazon, Microsoft-সহ একাধিক বিগ টেক কোম্পানি) বিদেশে থাকা কর্মীদের তড়িঘড়ি ই-মেল করে জানায়, শনিবার ভোরের মধ্যেই আমেরিকায় ফিরে আসতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 21 September 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন ঘোষণায় একপ্রকার দিশেহারা হাজার হাজার ভারতীয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) হঠাৎই ঘোষণা করেন, এইচওয়ানবি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের ফি ধার্য হবে। ঘোষণা ঘিরে মুহূর্তে তৈরি হয় আতঙ্ক। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি (Amazon, Microsoft-সহ একাধিক বিগ টেক কোম্পানি) বিদেশে থাকা কর্মীদের তড়িঘড়ি ই-মেল করে জানায়, শনিবার ভোরের মধ্যেই আমেরিকায় ফিরে আসতে হবে। ফলে অনেকেই মাঝপথে পারিবারিক অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে হয়। কেউ আবার ভিসা সমস্যার কারণে বাতিল করেন নিজের বিয়েও।
একজন ভারতীয় ভিসাধারী, যিনি ‘Saramuch’ নামে রেডিট-এ লিখেছেন, “মায়ের চোখের জল আপনাদের দেখতে হয়নি। কয়েক মাস পর মা-কে সময় দেওয়ার কথা ছিল, কয়েক বছর পর প্রথমবার মায়ের সঙ্গে সপ্তাহ কাটানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সব ভেস্তে গেল। এটা অন্যায়।” তাঁর আক্ষেপ, এই নীতি যে কী ভয়াবহ মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরে হোয়াইট হাউস (White House) জানায়, দেশে ফিরে আসা H-1B ভিসাধারীদের এই ফি দিতে হবে না। তাতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও তার আগেই পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার পর বহু ভিসাধারী জানান, ঘোষণার খবর আসতেই বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই তাঁরা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। একজনের কথায়, “নিজের বিয়ের জন্য যাচ্ছিলাম শুরু করেছিলাম, হঠাৎই সব গুছিয়ে রাখতে হল। জানি না আর কী হবে।”
বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা নির্দেশ দিয়েছে, আপাতত কোনও কর্মী যেন মার্কিন মাটি ছেড়ে বাইরে না যান। কারণ নীতি কবে কী ভাবে বদলাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
অনেকের মতে, কার্যত এটি এক ধরনের ট্রাভেল ব্যান। এক ভিসাধারী বলেন, “পাসপোর্টে বৈধ H-1B ভিসা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন মাটিতে ফেরা যাবে না, যদি না কোম্পানি ১ লক্ষ ডলার পরিশোধের প্রমাণ দেখায়। প্রক্রিয়াটা কী, কবে থেকে চালু হবে, কেউ জানে না। ফলে ভয়াবহ বিভ্রান্তি।”
ট্রাম্পের ঘোষণার ধাক্কায় একাংশ মনে করছেন, ভারতীয়দের কাছে আমেরিকার স্বপ্ন কার্যত ফিকে হয়ে যাচ্ছে। কারণ, নতুন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ১ লক্ষ ডলারের ফি অধিকাংশের পক্ষেই অসম্ভব।
একজনের কথায়, “মাত্র ছ’সাত মাস হল এই প্রশাসন এসেছে, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন, আদৌ আমেরিকায় ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব হবে কি না।”