বিষাক্ত ব্যাঙের বিষেই কি খুন করা হয়েছে পুতিনের কট্টর বিরোধী নাভালনিকে?

অ্যালেক্সি নাভালনি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্কটিকের প্রত্যন্ত পেনাল কলোনির বরফশীতল বন্দিশালাই ছিল তাঁর শেষ ঠিকানা। সেখানেই বন্দি ছিলেন অ্যালেক্সি নাভালনি (Alexei Navalny)—যাঁকে বিশ্ব চিনত ভ্লাদিমির পুতিন-এর অন্যতম কট্টর বিরোধী হিসেবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া এবং ক্রেমলিন-বিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা এই নেতা শেষ পর্যন্ত জালিয়াতির অভিযোগে ১৯ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বন্দি অবস্থাতেই ২০২৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় রাশিয়া সরকার দাবি করেছিল, নাভালনির মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে। তবে দুই বছর পর, ২০২৬ সালে ইউরোপের চার দেশ বিস্ফোরক দাবি করে বলছে—বিশেষ প্রজাতির ‘ডার্ট ফ্রগ’-এর বিষ প্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৪ সালে মৃত্যুর দিন, ৪৭ বছর বয়সী নাভালনি জেলের ভেতরে হাঁটছিলেন। আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। বুকে হাত দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তখন রাশিয়া এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু এখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স-সহ ইউরোপের চারটি দেশ যৌথভাবে দাবি করছে, তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে, নাভালনির বিরোধিতাকে ভয় পেয়েই রাশিয়ান রাষ্ট্র এই মারাত্মক বিষ ব্যবহার করেছে। যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় দেশগুলি জানিয়েছে, এই ধরনের বিষ প্রয়োগের উপায়, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—সবই রাশিয়ার ছিল। ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, “রাশিয়া নাভালনিকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখেছিল। এই ধরনের বিষ প্রয়োগ প্রমাণ করে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতি তাদের ভয় এবং নির্মম মনোভাব।”
নাভালনির স্ত্রীও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “দুই বছর আগে আমি বলেছিলাম ভ্লাদিমির পুতিনই আমার স্বামীকে হত্যা করেছেন। তখন সেটা শুধু অভিযোগ ছিল। কিন্তু আজ তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়েছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও ২০২০ সালে নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও তিনি সরাসরি ক্রেমলিনকে দায়ী করেছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘এপিবাটিডিন’ নামের এক মারাত্মক বিষ এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই বিষ পাওয়া যায় ‘ডার্ট ফ্রগ’ নামে পরিচিত বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙের শরীর থেকে। দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে এই ব্যাঙের বাস। উজ্জ্বল রঙের জন্য পরিচিত এই বিষাক্ত ব্যাঙ শিকারীদের সতর্ক করার জন্য বিশেষ ধরনের রঙের নকশা ধারণ করে। একসময় এদের ‘বিষ ব্যাঙ’ নামেও ডাকা হত।