ইসলামি দুনিয়ায় ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনীর প্রস্তুতির পর খুব দ্রুত হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা যুক্তিগুলি খতিয়ে দেখছেন এবং উপদেষ্টা ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 19 February 2026 09:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই, হয়তো এই সপ্তাহান্তেই, সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত মার্কিন সেনা (US strike on Iran)। তবে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump Iran military decision)। একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই দাবি করেছে সিএনএন (CNN)।
একইসঙ্গে, আরব দুনিয়ায় যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সামরিক বিমান দ্রুত পাঠানো হচ্ছে বলে খবর (Middle East Military Tension)। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানের পর এই প্রথম এত বড় আকারে মার্কিন বায়ুসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে ওই অঞ্চলে, জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal)।
হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, সিদ্ধান্তের অপেক্ষামাত্র
সূত্রের দাবি, হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, ইসলামি দুনিয়ায় ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনীর প্রস্তুতির পর খুব দ্রুত হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা যুক্তিগুলি খতিয়ে দেখছেন এবং উপদেষ্টা ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ (Steve Witkoff) এবং তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার (Jared Kushner)। আগের দিন জেনেভায় ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার রিপোর্টও তাঁকে জানানো হয়।
জেনেভা বৈঠকে অগ্রগতি নেই, অনিশ্চয়তা জারি
জেনেভায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি। ইরানের প্রধান আলোচক “কিছু নির্দেশক নীতিতে” ঐকমত্যের কথা বললেও, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও অমীমাংসিত।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিয়াভিট (Karoline Leavitt) জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, কূটনৈতিক সমাধানই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলেও, সামরিক বিকল্পও খোলা রয়েছে।
পরমাণু ঘাঁটি মজবুত করছে ইরান
এদিকে মার্কিন সামরিক চাপ বাড়ার মধ্যেই ইরান তার একাধিক পরমাণু স্থাপনাকে কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে শক্তিশালী করছে। নতুন স্যাটেলাইট ছবি ও বিশ্লেষণে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা আইসিস (ISIS)।
বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতি, আসছে যুদ্ধজাহাজ
মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই সপ্তাহান্তেই ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড (USS Gerald Ford) নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ওই অঞ্চলে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন বায়ুসেনার ট্যাঙ্কার ও যুদ্ধবিমান ইসলামি দুনিয়ার আরও কাছে সরানো হচ্ছে।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি হামলা, ইজরায়েলের ভূমিকা
Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যদি হামলা হয়, তবে তা একদিনের নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বড় আকারের সামরিক অভিযান হতে পারে। এতে ইজরায়েলের অংশগ্রহণও বড় ভূমিকা নিতে পারে। গত বছরের ১২ দিনের ইজরায়েল-নেতৃত্বাধীন অভিযানের চেয়েও বড় হতে পারে এই হামলা, এমনই আশঙ্কা মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের।
হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যে বড় সংঘর্ষে গড়াতে পারে - সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড়।