ইরানের ‘শাহেদ’ আক্রমণকারী ড্রোন পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর। কংগ্রেসে গোপন বৈঠকে উঠে এল নতুন সামরিক চ্যালেঞ্জের কথা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 5 March 2026 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান–আমেরিকা সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন সামরিক বাস্তবতা। সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে ইরানের ‘শাহেদ’ একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন (Shahed attack drone) পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নাও হতে পারে।
ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলো মার্কিন এয়ার ডিফেন্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই ড্রোন কৌশল শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, বিশ্বের সামরিক ভারসাম্যকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কংগ্রেসে গোপন বৈঠকে কী জানাল পেন্টাগন?
মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিল-এ মঙ্গলবার একটি ক্লোজড-ডোর ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তাঁরা স্বীকার করেন, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।
এই ড্রোনগুলির কিছু বৈশিষ্ট্য মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সমস্যায় ফেলছে—এগুলি খুব নিচু দিয়ে ওড়ে। গতিও তুলনামূলক ধীর। রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। তা ছাড়া সস্তা ও সংখ্যায় বিপুল। এই কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলিকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
‘সব ড্রোন আটকানো সম্ভব নয়’
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি বলেছেন—ইরানের সব ড্রোন হামলা আটকানো সম্ভব হবে না। যদিও তাঁরা মার্কিন সাংসদদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলি ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যায় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র (interceptors) মজুত করেছে। বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষিত সামরিক লক্ষ্যগুলিও পুনরায় উল্লেখ করেন। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের নৌবাহিনী দুর্বল করা, পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা শেষ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ইরানের অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করা। তবে সরকারিভাবে রেজিম চেঞ্জ বা শাসন পরিবর্তনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়নি।
মার্কিন অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এখন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য কয়েকজন উত্তরসূরিও হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই সংঘাত কতদিন চলবে তা নিয়েও মতভেদ দেখা যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে। রিপাবলিকান সেনেটর টমি টিউবারভিল জানিয়েছেন, প্রশাসন মনে করছে ৩ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্য অনেক আইনপ্রণেতা এই অনুমানের সঙ্গে একমত নন। রিপাবলিকান সেনেটর জশ হাওলি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে এই যুদ্ধের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বিষয়টা বেশ খোলা অবস্থাতেই রয়েছে।” ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ-ও জানিয়েছেন, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় চলতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঘরেও বেশ চাপে ট্রাম্প প্রশাসন।