মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা ভেস্তে গেলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হয় সমঝোতা হবে, নয়তো আগের বারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 February 2026 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে (Iran) ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা যত গাঢ় হচ্ছে, ততই সামরিক প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা-পর্ব চললেও (Iran US Conflict) পরিস্থিতি যে একেবারে স্বস্তির নয়, তা স্পষ্ট মার্কিন পদক্ষেপে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফর্ড (USS Gerald R. Ford)-কে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে সরিয়ে আরব দুনিয়ার দিকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রণতরীর সঙ্গে তার এসকর্ট জাহাজগুলিও রওনা হয়েছে এবং এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুর আগে ফেরার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে পেন্টাগন আরও একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা ভেস্তে গেলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হয় সমঝোতা হবে, নয়তো আগের বারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই একটি ‘আর্মাডা’ সেই অঞ্চলের দিকে রওনা দিয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও একটি বাহিনী পাঠানো হতে পারে।
জনপ্রিয় এক মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি হতে পারে, যদিও এখনও পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। পেন্টাগন সূত্রে আরও জানা গেছে, পূর্ব উপকূল থেকে আরও একটি রণতরী দুই সপ্তাহের মধ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই মুহূর্তে ভার্জিনিয়া উপকূলে মহড়ায় রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ (USS George H.W. Bush)। প্রয়োজনে সেই মহড়া সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই আরব দুনিয়ার উপকূলে অবস্থান করছে ইউএসএস লিঙ্কন (USS Lincoln) এবং আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ।
এদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর তিনি জানান, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষেই তিনি জোর দিয়েছেন। তবে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্কবার্তাও দেন - আগেও ইরান চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ফল ভুগেছে।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে আরব দুনিয়ায় সামরিক তৎপরতা দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।