ইরানের মাটিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন পেন্টাগন। জাহাজে করে সেনা মোতায়েন, প্যারাট্রুপার বাহিনী প্রস্তুত—ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 29 March 2026 08:36
.দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে এবার স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন সেনা সদর পেন্টাগন। স্থল বাহিনীর প্রায় চার হাজার সেনাকে জাহাজে করে ইরানের আশপাশে মার্কিন মিত্র দেশ গুলিতে জড়ো করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্যারাট্রুপার বাহিনীকেও প্রস্তুত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের এই খবর নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন এই খবরের সত্যতা নিয়ে কোনও সংশয় প্রকাশ করেনি। বরং ঘটনা প্রবাহ যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে ইরানে মার্কিন পদাতিক সেনার পদার্পণ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইরাকের পর ইরানেও দীর্ঘ মেয়াদের যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা, এমনটাই মনে পড়ছে ওয়াকিবহাল মহল।
সে ক্ষেত্রে ইরানের মাটিতে ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অপেক্ষা করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা শুরুর পর এখনও পর্যন্ত আকাশ পথে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে দুই পক্ষ। ইরান সরাসরি আমেরিকাকে আঘাত করতে না পারলেও আরব ভূমিতে তাদের মিত্র দেশগুলিতে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দশ হাজার সেনা পাঠানো সিদ্ধান্ত নেন।
এরই মধ্যে খবর এসেছে ইরানের মাটিতেই নামবে মার্কিন সেনা। সেদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে তারা সীমিত মাত্রার অভিযান চালাতে চায়। মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা, যেভাবে প্যালেস্টাইনে ইসরাইল বাহিনী প্যালেস্টাইন লিবারেশন আর্মিকে প্রর্যুদস্ত করেছে।
এমন সম্ভাবনা আঁচ করে ইরানি প্রশাসন ইতিমধ্যেই সে দেশের নাগরিকদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বয়সসীমা কমিয়ে দিয়েছে। এতদিন বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বয়সসীমা ছিল ১৮ বছর। অর্থাৎ ১৮ পেরলেই যুদ্ধে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন সম্মুখ সমরের সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় সেই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনারা ইরানের মাটিতে নামলে তাদের সে দেশের অস্ত্রধারী শিশুদের মুখোমুখি হতে হবে এমন সম্ভাবনা প্রবল। সবমিলিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর ঘিরে এখন গোটা বিশ্ব আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিচলিত।
তবে পেন্টাগনের পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে এখনো মুখ খোলেননি। তবে সাত দিন আগে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন শান্তি প্রস্তাবে সায় না দিলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্পের সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে।
এদিকে আমেরিকা যখন নব উদ্যোগে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন তখন ইরানের সাবেক ও সর্বশেষ শাহ–এর পুত্র রেজা পাহলভী আমেরিকার টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে অনুরোধ করেছেন তিনি যেন ইরানের বর্তমান শাসকদের সঙ্গে কোনও ধরনের শান্তি চুক্তি না করেন। তার মতে শান্তি চুক্তি না করলে সেটাই বড় হবে আমেরিকার জন্য মঙ্গলদায়ক।