এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড়সড় বৈঠক ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। সূত্রের খবর, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 August 2025 07:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে দিল, ভারতের (India) আমদানির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়াল ৫০ শতাংশ (50% Tariffs)। আগামী ২৭ অগস্ট মার্কিন সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। এই মর্মে নোটিসও (Notice) দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনস্থ কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ৬ অগস্ট নির্বাহী আদেশ (এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪৩২৯)-এ সই করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সরকারের (Russia) সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলিকে ‘শাস্তি’ দিতে এই নীতি নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন পণ্যের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। ২৭ অগস্টের পরে যেসব ভারতীয় পণ্য মার্কিন বন্দরে পৌঁছবে বা গুদাম থেকে ছাড়া হবে, সেগুলির উপরেই নতুন শুল্ক বসবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর আরও নতুন নিষেধাজ্ঞা বা বাড়তি শুল্ক আরোপ হতে পারে। প্রেসিডেন্ট বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে যদি সমঝোতা না হয়, তবে খুব বড় পরিণতি আসবে।” তবে এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিনের উপর এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি আমেরিকা।
ভারতের ক্ষেত্রে শুল্ক কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেল। আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, তার উপরে ফের ২৫ শতাংশ যুক্ত হওয়ায় তা দাঁড়াল ৫০ শতাংশে। নয়াদিল্লি এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি ঘটলে এই বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশাবাদী সরকার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সোমবার আমদাবাদের এক জনসভায় বলেন, “আমেরিকার চাপ যতই আসুক, ভারত তার শক্তিতে তা সামাল দেবে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে গুজরাত আজ যে শক্তি যোগাচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে দু’দশকের কঠোর পরিশ্রম।” তিনি আরও জানান, দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) ভারতীয় রফতানিপণ্যের উপর শুল্ক (Tariffs) দ্বিগুণ হওয়ায় নতুন করে চাপে রফতানিকারীরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড়সড় বৈঠক ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। সূত্রের খবর, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব।
ইতিমধ্যেই বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক বিভিন্ন রফতানিকারী সংগঠন এবং রফতানি উন্নয়ন পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আলোচনা ঘুরছে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিশেষ কিছু খাতকে লক্ষ্য করে সুরাহার পথ খোঁজার দিকে। সরকার মনে করছে, সমগ্র অর্থনীতির জন্য সমর্থনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার থেকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক সহায়তাই বেশি কার্যকর হবে।
রফতানিকারীরা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, জরুরি ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প (ECLGS)-এর মতো ব্যবস্থার, যাতে জামানত ছাড়াই সরকারি ঝুঁকি কাভার দিয়ে কার্যকরী মূলধন ঋণ পাওয়া যায়। তবে আধিকারিকদের মতে, শিল্পভিত্তিক বিশেষ ক্রেডিট লাইন ও ক্লাস্টারভিত্তিক মূলধন তহবিল চালু করা হলে চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষত ক্ষুদ্র শিল্পগুলির জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
সরকারি আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রফতানিমুখী ইউনিট এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলিকে রক্ষা করাই এখন সরকারের কৌশলের মূল লক্ষ্য। কারণ বহির্বিশ্বের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই খাত।
বৈঠকে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলেই খবর। কারণ বিশেষত টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কেমিক্যাল খাত— সব ক্ষেত্রেই নতুন শুল্কের ধাক্কা বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা।