উদ্ধারকাজ সফল হলেও বিপত্তি ঘটে ফেরার সময়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দুটি এমসি-১৩০জে (MC-130J) ট্রান্সপোর্ট বিমান কোনও যান্ত্রিক কারণে বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইরানের মাটিতেই আটকে পড়ে।

ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করল তেহরান
শেষ আপডেট: 5 April 2026 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শত্রুশিবিরের ‘ব্যুহ’ ভেদ করে নিজের দেশের সেনাকর্তাকে উদ্ধার করতে সফল হয়েছে আমেরিকা (US)। কিন্তু সেই ‘অপারেশন’ শেষে ফেরার পথে নিজেদেরই দু'টি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস (US Warplane) করে দিয়ে আসতে বাধ্য হলেন মার্কিন কমান্ডোরা। ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনার এই দশা দেখে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করলেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার কলিবফ। খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘আমেরিকা যদি এইভাবে আরও তিনটি ‘জয়’ পায়, তবে তারা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’’
গত শুক্রবার ইরানের (Iran War) আকাশসীমায় ভেঙে পড়েছিল আমেরিকার একটি এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান। তেহরানের দাবি ছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতেই ভেঙে পড়েছে ওই বিমান। বিমানের দুই চালকের মধ্যে এক জনকে আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয় জনের খোঁজে ইরানি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। শেষমেশ এক দুঃসাহসিক অভিযানে ওই ‘কর্নেল’ পদমর্যাদার অফিসারকে উদ্ধার করেন মার্কিন জওয়ানরা। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উল্লাস প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘আমরা ওকে পেয়ে গিয়েছি!’’
উদ্ধারকাজ সফল হলেও বিপত্তি ঘটে ফেরার সময়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দুটি এমসি-১৩০জে (MC-130J) ট্রান্সপোর্ট বিমান কোনও যান্ত্রিক কারণে বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইরানের মাটিতেই আটকে পড়ে। শত্রুদেশ যাতে আধুনিক মার্কিন প্রযুক্তির ওই বিমান দুটির হদিস না পায় বা সেগুলি হস্তগত করতে না পারে, তাই পিছু হঠার সময় নিজেদের বিমানেই বিস্ফোরণ ঘটায় মার্কিন বাহিনী।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) অবশ্য দাবি করেছে, আমেরিকার এই উদ্ধার অভিযান মোটেও ‘মসৃণ’ ছিল না। ইরানের পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ইস্ফাহানের কাছে তারা একটি মার্কিন সি-১৩০ বিমান গুলি করে নামিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সেনাকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা কেবল দুটি বিমানই নয়, বরং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও খুইয়েছে এই অভিযানে। সিএনএন-এর পরিসংখ্যান বলছে, এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭টি মানবচালিত মার্কিন বিমান ধ্বংস হয়েছে। যদি ইরানের দাবি সত্যি হয়, তবে সেই সংখ্যাটা এবার ১০ পেরিয়ে যাবে।
আমেরিকা বারংবার তাদের আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করলেও, একের পর এক বিমান ধ্বংসের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি বাড়ছে। ট্রাম্প একে ‘অলৌকিক’ উদ্ধারকাজ বলে দাবি করলেও, ইরান যে ভাবে ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশ করে একে ‘বিপর্যয়’ বলে দেগে দিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।