মিনিয়াপোলিসে (Minneapolis) মার্কিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের (Federal immigration agents) গুলিতে প্রাণ গেল এক মার্কিন নাগরিকের (US citizen Death)।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 25 January 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিনিয়াপোলিসে (Minneapolis) মার্কিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের (Federal immigration agents) গুলিতে প্রাণ গেল এক মার্কিন নাগরিকের (US citizen Death)। চলতি মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনার জেরে শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। শনিবারের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর (Department of Homeland Security) জানিয়েছে, এটি ছিল আত্মরক্ষার ঘটনা। তাদের দাবি, এক ব্যক্তি বন্দুক হাতে এজেন্টদের (Agent) দিকে এগিয়ে এসে হামলা চালায় এবং অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করতে গিয়েই এক বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট গুলি চালান।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ভিডিও অন্য ছবি তুলে ধরছে। রয়টার্স যাচাই করা সেই ফুটেজে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি ৩৭ বছরের অ্যালেক্স প্রেটি, হাতে বন্দুক নয়, একটি ফোন ধরে ছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন আইসিইউ নার্স। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ফেডারেল এজেন্টরা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলে তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান প্রেটি। এক পর্যায়ে তিনি নিজের হাত তুলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন, তখন তাঁকে পিপার স্প্রে করা হয়।
এর পর একাধিক এজেন্ট প্রেটিকে ধরে ফেলে মাটিতে নামিয়ে দেন। সেই সময় কেউ একজন বন্দুক থাকার বিষয়ে সতর্কচিৎকার করছে বলে শোনা যায়। ফুটেজে দেখা যায়, এক এজেন্ট প্রেটির কাছ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নিয়ে কিছুটা দূরে সরে যান। ঠিক তার পরই প্রেটির পিঠ লক্ষ্য করে এক এজেন্ট পরপর চার রাউন্ড গুলি চালান। পরে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।
গুলি চালানোর পর প্রথমে এজেন্টরা প্রেটির দেহ থেকে সরে যায়। কিছুক্ষণ পরে কয়েকজন এজেন্ট তাঁকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে বাকিরা ভিড়কে দূরে সরিয়ে রাখেন।
এই ঘটনার পরই মিনিয়াপোলিসের ওই এলাকায় কয়েকশো মানুষ বিক্ষোভে নামেন। সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের মুখোমুখি হয় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। মিনিয়াপোলিসের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং সান ফ্রান্সিসকো-সহ একাধিক শহরেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। কারণ, চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি আর এক মার্কিন নাগরিক রেনি গুডের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। এই নতুন ঘটনার তদন্তে স্থানীয় প্রশাসনকে অংশ নিতে দিতে অস্বীকার করেছে ফেডারেল এজেন্টরা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেছেন, ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় প্রেটি এজেন্টদের উপর হামলা চালিয়েছিলেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, প্রেটি আদৌ অস্ত্র বের করেছিলেন কি না। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ একটি বন্দুকের ছবিও প্রকাশ করেছে, যা তাঁদের দাবি অনুযায়ী প্রেটির কাছে ছিল।
তবে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়াল্জ সেই বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন কোণ থেকে ভিডিও দেখেছি। দৃশ্যটা বীভৎস। এই তদন্ত ফেডারেল সরকারের হাতে ছাড়া যায় না।” তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসন নিজেই তদন্ত করবে। মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের প্রধান ড্রু এভান্স অভিযোগ করেন, শনিবার ফেডারেল এজেন্টরা তাঁদের তদন্ত শুরু করতে বাধা দিয়েছে।
মিনিয়াপোলিসের পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, প্রেটি একজন বৈধ বন্দুক মালিক ছিলেন এবং ট্রাফিক লঙ্ঘন ছাড়া তাঁর কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের পুলিশ ও রাজ্য ট্রুপাররা রাস্তায় নামে। ফেডারেল এজেন্টরা এলাকা ছাড়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, বিক্ষোভ চলে দীর্ঘক্ষণ।
নিরাপত্তাজনিত কারণে মিনিয়াপোলিস ইনস্টিটিউট অব আর্ট বন্ধ রাখা হয় এবং এনবিএ একটি মিনেসোটা টিম্বারওলভসের ম্যাচ স্থগিত করে। পুলিশ প্রধান শহরবাসীর কাছে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, “দয়া করে আমাদের শহর ধ্বংস করবেন না।”
এই ঘটনার পর গভর্নর ওয়াল্জ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ট্রাম্প প্রশাসনের স্থানীয় ইমিগ্রেশন অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। ফ্রের প্রশ্ন, “আর কত মানুষ মরলে বা আহত হলে এই অভিযান বন্ধ হবে?”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাল্টা ওয়াল্জ জানান, এই ইমিগ্রেশন ধরপাকড়ে স্থানীয় পুলিশের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবারের ঘটনার আগেই ইমিগ্রেশন অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল মিনিয়াপোলিসে। এক মার্কিন নাগরিককে বাড়ি থেকে হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় তুলে নেওয়া, এমনকি পাঁচ বছরের শিশু-সহ স্কুলপড়ুয়াদের আটক করার অভিযোগও সামনে এসেছিল। সেই আবহেই ফের এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু নতুন করে আগুনে ঘি ঢালল।