ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2025 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা ব্রিটেন পাশে রয়েছে। শান্তি ফেরাতে যতদিনই লাগুক না না কেন, আমরা সবসময় পাশে আছি। ভলোদোমির জেলেনস্কিকে (Volodymyr Zelenskyy) বুকে জড়িয়ে আশ্বস্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (Keir Starmer)। ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের (Ukraine President) উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় গোটা বিশ্বে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমন আবহে শনিবারই ব্রিটেনে গিয়ে পৌঁছন জেলেনস্কি। দেখা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাদানুবাদের এক দিনের মাথায় তাঁকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাল ব্রিটেন। সূত্রের খবর ব্রিটেনের থেকে ২.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ পেয়েছে ইউক্রেন। সেই ঋণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলেনস্কি বলেন, এই অর্থ সাহায্যে ইউক্রেন অস্ত্র তৈরির কাজ করবে।
অন্যদিকে ব্রিটেন জানিয়েছে, রাশিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে যে লাভ হয়েছিল, তা থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ দেওয়ার কথা ছিল জি৭ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির। সেই প্যাকেজের অংশ হিসাবেই এই ঋণ দেওয়া হয়েছে।
এদিন জেলেনস্কি বলেন, ব্রিটেনের মতো এমন বন্ধু পেয়ে আমরা গর্বিত। যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের সমর্থন করার জন্য ব্রিটিশদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এর আগে শুক্রবারই ওভাল অফিসে বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে সুর চড়িয়ে কথা বলেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রীতিমতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় ভলোদিমির জেলেনস্কির।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেই বৈঠকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দু'জনের। এই আবহে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়। এদিকে রবিবারই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করার কথা জেলেনস্কির।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক ব্যর্থ হওয়া এবং হোয়াইট হাউসে তাঁদের বাদানুবাদের বিষয়টি সামনে আসার পর ইউরোপ পাশে দাঁড়িয়েছিল ইউক্রেনের। ইউরোপের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তারপর এক দিন কাটতে না কাটতেই ব্রিটেনে সাদর অভ্যর্থনা পেলেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান।
যদিও ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম থেকেই ওয়াশিংটন ডিসি-কে পাশে পেয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে বিগত বছরগুলিতে মার্কিন মসনদে ছিলেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে সেই সব বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নেন ট্রাম্প এবং তিনি ইউক্রেনের বদলে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে থাকেন। ট্রাম্প এও ইঙ্গিত করেছিলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্যে আদতে জেলেনস্কি দায়ী। এই আবহে ইউক্রেন থেকে মার্কিনি সাহায্যের অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন। আগামীতে ইউক্রেনকে সাহায্য করবেন না বলেও জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
এর মাঝেই ২৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে মুখোমুখি হন ট্রাম্প এবং জেলেনস্কি। সেই সাক্ষাতের দিকে গোটা বিশ্বের নজর থাকলেও রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পরই ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন ইউরোপের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।