রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের পাঠানো ২৮ দফা পরিকল্পনায় ভূখণ্ড ছাড়াই ন্যাটোতে যোগ না-দেওয়ার শর্তে আপত্তি তুলল ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলি। ২৭ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কিয়েভকে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 November 2025 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার মধ্যস্থতাতেও ইউক্রেন (Ukraine) ও রাশিয়ার (Russia) মধ্যে শান্তি আলোচনা (Peace Talks) বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, এবার ভিন্ন পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দু'পক্ষের যুদ্ধ থামাতে তিনি কিয়েভের (Kyiv) কাছে ২৮ দফা খসড়া পরিকল্পনা পাঠিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটি আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
যদিও এই পরিকল্পনায় কিছু ভাল দিক আছে বলে ইউরোপ, কানাডা এবং জাপানের নেতারা-সহ ইউক্রেনের পশ্চিমা সমর্থকরা জানিয়েছেন, কিন্তু এর দু'টি মূল শর্ত নিয়ে তাঁরা গুরুতর আপত্তি তুলেছেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে তার কিছু এলাকা (যেমন দোনেৎস্ক, লুহানস্ক-সহ বেশ কিছু জায়গা) রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে হবে। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ এই শর্ত মানতে নারাজ।
পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সামরিক শক্তি (Military Power) কমিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা সমর্থকরা মনে করছেন, এটি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে আবারও আক্রমণের মুখে ঠেলে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ইউক্রেন ভবিষ্যতে ন্যাটো (NATO) সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে না বলেও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky) অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকা এই পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ দিচ্ছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি। তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে দেশের সম্মান ও স্বাধীনতাও ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
এই বিষয়ে আলোচনার জন্য রবিবার জেনেভাতে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউক্রেনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। ইউক্রেনকে এই মাসের ২৭ তারিখের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।