আগামী সপ্তাহে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা হবে, তার পর বুদাপেস্টে ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠক।

শেষ আপডেট: 17 October 2025 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ (Russia Ukraine War) তীব্র হচ্ছে, তার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত পরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওঁর (পুতিনের) সঙ্গে দেখা করব। তার আগে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।” তিনি আরও জানান, “দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কো রুবিও তাঁর রুশ সমকক্ষ সের্গেই লাভরভের সঙ্গে দেখা করবেন... পুতিনের সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ ফোনালাপ হয়েছে। আমি ওঁর সঙ্গে দেখা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করব, এবং তাঁকে ওই ফোনালাপের বিষয়ে জানাব।”
ট্রাম্প দাবি করেন, “ওঁদের (পুতিন-জেলেনস্কি) সম্পর্ক খুবই খারাপ। আমরা ইতিমধ্যেই আটটি যুদ্ধ মিটিয়ে ফেলেছি, এবার নবমটাও শেষ করব।”
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টার ফোনালাপের পরেই এই বৈঠক নিয়ে সম্মতি হয়। আগামী সপ্তাহে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা হবে, তার পর বুদাপেস্টে ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠক। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “দেখা যাক, আমরা এই ‘অপমানজনক’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারি কি না।”
এই ফোনালাপের পরের দিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের কথা রয়েছে ট্রাম্পের। জেলেনস্কি চাইছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেনকে দীর্ঘ-পাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করে, যা রুশ ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।
জেলেনস্কির দাবি, এই ধরনের আক্রমণই পুতিনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন চতুর্থ বছরে পড়লেও এখনও পর্যন্ত পুতিন কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত দেননি। বরং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর উপর একাধিক বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তীব্র ঠান্ডা পড়ার আগে দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রুশ হামলায় ইউক্রেনের ঘরোয়া গ্যাস উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের জনমানস ভেঙে দিতে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালাচ্ছে মস্কো।