ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। তিনি আগেই তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের সঙ্গে সোমবারেই চুক্তির সম্ভাবনা জানালেন তিনি।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 5 April 2026 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল, ৪ মার্চ, হরমুজ প্রণালী খোলার হুঁশিয়ারি-সহ ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইরানকে নিয়ে আবারও নতুন বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সোমবারের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার “ভাল সম্ভাবনা” রয়েছে। তবে সেই সঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও - সময়সীমার মধ্যে সমাধান না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
রবিবার Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় আগামীকাল একটা ভাল সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই আলোচনা চলছে।” ইরানের সঙ্গে যে কথাবার্তা চলছে, তারই ইঙ্গিত দেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী খুলতে চাপ
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। তিনি আগেই তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর গত এক মাস ধরে কার্যত এই রুটে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, “ওরা যদি দ্রুত চুক্তি না করে, তাহলে আমি সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি এবং তেলের দখল নেব।” এমনকি, সময়সীমা অমান্য করা হলে ইরানে “সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেঙে পড়তে দেখা যাবে”, এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
একই দিনে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি পোস্টেও তেহরানকে সরাসরি হুমকি দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, মঙ্গলবার হবে “পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে” এবং “ব্রিজ ডে”, অর্থাৎ বড় আকারের হামলার ইঙ্গিত। আরও বিতর্ক বাড়িয়ে তিনি লেখেন, “প্রণালী খুলে দাও, না হলে নরকে বাস করতে হবে”, এমন ভাষাও ব্যবহার করেন।
সাক্ষাৎকারেই ট্রাম্প একটি বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর কথায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবাদীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা অনেক অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম। আমার মনে হয় কুর্দিরাই সেই অস্ত্র নিয়েছিল।” এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন সোমবার ওভাল অফিসে তিনি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন।
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের দুই পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করার পরই এই ঘোষণার কথা জানান তিনি। শুক্রবার ওই বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
একদিকে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি - দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে এখন মার্কিন-ইরান সম্পর্ক। সোমবারের মধ্যে আদৌ কোনও সমাধান বেরোয় কি না, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে মোড় নেয় - সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।