ইরান আক্রমণ শুরুর আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সে দেশে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলে আসছিলেন। হোয়াইট হাউজের বক্তব্য ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুটি উদ্দেশ্য। তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে চান।

কে এই গালিবাফ
শেষ আপডেট: 24 March 2026 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত অবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। তাঁকে ডাহা মিথ্যাবাদী বলে দেগে দিয়েছেন মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf)। বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প গোটা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছেন। ডাহা মিথ্যা কথা বলছেন বিশ্ববাসীকে। যুদ্ধ বিরতি নিয়ে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের কোন আলোচনা হয়নি। এমন কোন প্রস্তাবে সায় দেয়নি তেহরান (Tehran)।
গালিবাফের এই প্রতিক্রিয়া জানাজানি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে ইরান (Iran War) নিয়ে তাহলে কি ট্রাম্প বড় ধরনের ধাক্কা খেতে চলেছেন। একাধিক পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল গালিবাফকে ইরানে তাঁর বন্ধু ভাবছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর অনুগামীরা। একাধিক বৈঠকে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গালিবাফ একজন বাস্তববাদী এবং আধুনিক মনস্ক মানুষ। হোয়াইট হাউস তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে স্বস্তি বোধ করবে। সুদিন ফিরবে ইরানেও।
কে এই গালিবাফ ট্রাম্প যাঁকে এত বিশ্বস্ত ভাবছিলেন? তিনি ইরান সংসদের স্পিকার। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাসহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে নিহত হওয়ার পর সংসদ স্পিকার গালিবাফ সামনের সারিতে এসেছেন। ইরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তিনি।
একাধিক সূত্রের খবর গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাঁকে বিকল্প নেতা বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। কিন্তু ইরানের ওই নেতা সাড়া দেননি। বরং বিগত কয়েকদিন যাবত তিনি কড়া জবাব দিচ্ছেন ট্রাম্পকে।
ইরান আক্রমণ শুরুর আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সে দেশে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলে আসছিলেন। হোয়াইট হাউজের বক্তব্য ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুটি উদ্দেশ্য। তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে চান। এছাড়া দেশটিকে ধর্মীয় অনুশাসন মুক্ত করা তাঁর লক্ষ্য। আমেরিকায় আশ্রয়প্রার্থী ইরানের প্রাক্তন শাসক শাহ পরিবারের সঙ্গেও ট্রাম্প প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিল তখন থেকে। তবে আমেরিকার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল, ইরানের ভেতরেই কোনও নেতাকে বেছে নেওয়া। সেই লক্ষ্যেই সংসদ স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে আশায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।