Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইরানের পারমাণবিক বাঙ্কার ধ্বংসের ক্ষমতা নেই ইজরায়েলের, ভরসা মার্কিন শক্তিশালী বোমা ‘এমওপি’

ইরানের গভীর বাঙ্কারে হামলা চালাতে পারে আমেরিকার জিবিইউ-৫৭এ/বি এমওপি বোমা। এটি শুধু বি-টু স্পিরিট যুদ্ধবিমানে বহনযোগ্য। এখনো ইজরায়েলের কাছে নেই এই অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ।

ইরানের পারমাণবিক বাঙ্কার ধ্বংসের ক্ষমতা নেই ইজরায়েলের, ভরসা মার্কিন শক্তিশালী বোমা ‘এমওপি’

এমওপি বোমা।

শেষ আপডেট: 19 June 2025 16:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পাহাড়ের নীচে লুকোনো পারমাণবিক বাঙ্কারগুলোয় আঘাত হানার মতো শক্তিশালী অস্ত্রের মধ্যে অন্যতম একটি হল আমেরিকার 'জিবিইউ-৫৭এ/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর' বা এমওপি। তবে এখনও পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হয়নি। এমনকি ইজরায়েলের পক্ষেও এই বোমা ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

এমওপি কোনও পারমাণবিক বোমা নয়, এটি একটি অতি শক্তিশালী নন-নিউক্লিয়ার বাঙ্কার ব্লাস্টার। ওজন ৩০ হাজার পাউন্ড বা ১৩ হাজার ৬০০ কেজি। এটি মাটির প্রায় ২০০ ফুট নিচে গিয়েও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এই অস্ত্র এতটাই ভারী ও শক্তিশালী যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু স্পিরিট (B-2 Spirit) স্টিলথ যুদ্ধবিমানই এটি বহন করতে পারে।

শুধুমাত্র ইউএস-বি-টু স্পিরিট যুদ্ধবিমানই শুধু জিবিইউ-৫৭এ/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) বোমা বহন করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এই বোমাটি এখনও কোনও যুদ্ধে ব্যবহার হয়নি, তবে নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জে এটি সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে। এর প্রস্তুতকারক বোয়িং। শক্তিশালী বিস্ফোরক ক্ষমতার দিক থেকে এটি ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ব্যবহৃত 'মাদার অব অল বম্বস' বা এমওএবি-র চেয়েও কার্যকর বলে মনে করা হয়।

কেবল আমেরিকার হাতেই এমওপি

এমওপি বহনের জন্য উপযোগী একমাত্র বিমান হলো বি-টু স্পিরিট। এটি নর্থরপ গ্রুম্যান কোম্পানির তৈরি এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বোমারু বিমান। এই বিমান একটানা ৭ হাজার মাইল এবং একবার জ্বালানি ভরে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মাইল পর্যন্ত উড়তে পারে। এটি পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাতে পারে বলেও দাবি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের।

বি-টু একসঙ্গে দুটি এমওপি বহন করতে সক্ষম, যার সম্মিলিত ওজন ২৭ হাজার কেজির বেশি। তবে এমন অস্ত্রের সংখ্যা আমেরিকারও খুবই সীমিত। অনুমান করা হয়, ১০ থেকে ২০টির মতো আছে।

ইজরায়েলের চ্যালেঞ্জ, ফোর্ডো কমপ্লেক্স

ইরানের ফোর্ডো পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র তেহরান থেকে প্রায় ৯৫ কিমি দূরে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। এই ফোর্ডোই এমওপি বোমার সম্ভাব্য টার্গেট। এই স্থাপনাটি প্রায় ৮০ মিটার পাথর ও মাটির নীচে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত। ইজরায়েলের প্রধান লক্ষ্যই হল, এই কমপ্লেক্স ধ্বংস করা।

তবে ইজরায়েলের নিজস্ব এমন কোনও অস্ত্র নেই, যা ফোর্ডোর মতো গভীর বাঙকারে আঘাত হানতে পারে। তাই এমওপি ব্যবহারের জন্য তাদের আমেরিকার সাহায্য দরকার। কিন্তু আমেরিকা এখনও ইজরায়েলকে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ কথা

এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, ইরানে এমওপি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মার্কিন প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই সিদ্ধান্ত আরও রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

পিস স্টাডিজ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পল রজার্স মনে করেন, ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এমওপি ব্যবহার করতে হলে শুধু বি-টু নয়, সঙ্গে এফ-২২ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহারেরও প্রয়োজন হবে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা আসলে চায় না, ইজরায়েল একা এই হামলায় নেতৃত্ব দিক।

ইজরায়েলের মার্কিন দূত ইয়েখিয়েল লেইটার জানিয়েছেন, ফোর্ডো নিশ্চিহ্ন করাই এই পুরো অভিযানের লক্ষ্য। সবসময় আকাশপথেই বোমা ফেলে সব কিছু করা হয় না, একথাও উল্লেখ করেন তিনি

ইরানের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইরান সবসময় বলে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তারা কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়নি। তবে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) জানায়, তারা ইরানে এমন ইউরেনিয়াম কণা পেয়েছে যার পরিশোধন মাত্রা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি।

সম্প্রতি সংস্থাটির বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

সব মিলিয়ে, ফোর্ডোর মতো স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে হলে আমেরিকাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা কি ইজরায়েলকে এই যুদ্ধ-ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে? নাকি সরাসরি আমেরিকা নিজেই জড়াবে এমন অভিযানে?

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, ইরানের উপর হামলার অভিঘাত কতটা হবে।


```