ইসলামাবাদের (Islamabad) অভিযোগ, এই রক্তক্ষয়ের নেপথ্যে রয়েছেন এক ব্যক্তি: নূর ওয়ালি মেহসুদ (Noor Wali Mehsud), তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র প্রধান।

নূর ওয়ালি মেহসুদ
শেষ আপডেট: 16 October 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Pakistan Afghanistan) সীমান্তে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের পর এখন এক অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) চলছে। কিন্তু ইন্ধন মেটেনি। ইসলামাবাদের (Islamabad) অভিযোগ, এই রক্তক্ষয়ের নেপথ্যে রয়েছেন এক ব্যক্তি: নূর ওয়ালি মেহসুদ (Noor Wali Mehsud), তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র প্রধান।
গত সপ্তাহে কাবুলে এক বিমান হামলায় টার্গেট করা হয়েছিল একটি বুলেটপ্রুফ টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সেই গাড়িতেই ছিলেন মেহসুদ। তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। হামলার পরপরই টিটিপি প্রকাশ করে একটি অডিও বার্তা, যেটিকে মেহসুদের কণ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে।
এটাই ছিল কাবুলে প্রথম বিদেশি বিমান হামলা, ২০২২ সালে মার্কিন ড্রোনে আল-কায়দা প্রধান আইমান আল-জাওয়াহিরিকে হত্যার পর। যদিও পাকিস্তান এখনও সরকারি ভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
আফগান তালিবান বলছে, তারা কোনও পাকিস্তানি জঙ্গিকে আশ্রয় দেয় না। বরং ইসলামাবাদই নাকি লুকিয়ে রাখছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর স্থানীয় শাখাকে। যে সংগঠনটি আফগান তালিবানের প্রধান শত্রু। এই পারস্পরিক অভিযোগে সীমান্তের দুই দেশের সম্পর্ক ফের দাঁড়িয়েছে এক বিপজ্জনক দ্বন্দ্বের মুখে।
২০১৮ সালে, মার্কিন ড্রোন হামলায় একে একে তিন নেতা নিহত হওয়ার পর টিটিপি-র দায়িত্ব নেন নূর ওয়ালি মেহসুদ। তখন পাকিস্তানের সেনা অভিযানে জঙ্গিদের ঘাঁটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত, টিটিপি সরে গেছে আফগান মাটিতে।
কিন্তু মেহসুদের নেতৃত্বে সংগঠনটি যেন নতুন প্রাণ পায়। তিনি কূটনৈতিক দক্ষতায় ভেঙে যাওয়া গোষ্ঠীগুলোকে একত্র করেন, বদলান কৌশল। ধর্মতত্ত্বে প্রশিক্ষিত এই নেতা শুধু অস্ত্রের নয়, আদর্শের লড়াইও শুরু করেন।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা নেওয়ার পর মেহসুদের দল পায় নতুন গতি, বাড়ে চলাচলের স্বাধীনতা, মেলে আধুনিক অস্ত্র। পাকিস্তান বলে, সেই থেকেই তাদের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে হামলা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।
এক সময় টিটিপি অসামরিক এলাকায় হামলার জন্য কুখ্যাত ছিল। ২০১৪ সালে পেশোয়ারের একটি স্কুলে ১৩০-রও বেশি শিশুকে হত্যা করেছিল তারা। কিন্তু মেহসুদ বুঝেছিলেন, এই নৃশংসতা পাকিস্তানের জনমত ঘুরিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। তাই তিনি নির্দেশ দেন, এখন থেকে টার্গেট শুধু সেনা ও পুলিশ।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় মেহসুদ পাকিস্তান সেনাকে “ইসলামবিরোধী” বলে আখ্যা দেন। দাবি করেন, দেশের সেনা “গত ৭৮ বছর ধরে জনগণকে বন্দি করে রেখেছে।” পাকিস্তান সেনা অবশ্য জানায়, টিটিপি ইসলামকে বিকৃত করছে, আর এর পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাত আছে, যা নয়াদিল্লি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আবেগেও জোর দিচ্ছেন মেহসুদ। তিনি অন্তত তিনটি বইয়ের লেখক, যার একটি ৭০০ পৃষ্ঠার বইয়ে টিটিপি-র বিদ্রোহকে তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষক আবদুল সায়েদ বলেন, “মেহসুদ নিজেকে পশতুন জাতির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চান। তাঁর লক্ষ্য আফগান তালিবানের মতো এক ইসলামিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে।” তবে বাস্তবে, টিটিপি-র জনসমর্থন প্রায় নেই বললেই চলে, না ওই অঞ্চলে, না পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে।
গত কয়েক দিনে পাকিস্তানি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় মেহসুদের দূতেরা জানিয়েছেন তাঁদের তিনটি দাবির কথা
ইসলামাবাদ অবশ্য এই দাবিগুলো স্পষ্ট ভাবে নাকচ করেছে।