দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালিবানের আগের শাসনের দুঃসহ স্মৃতি মনে গেঁথে থাকায় বিশ বছর পর আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরে তাদের নেতাদের নতুন দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না সেদেশের লোকজন, বিশেষতঃ মহিলারা। অতীতে মহিলাদের পায়ে বেড়ি পরিয়ে রেখেছিল তারা, অবাধ্য হলেই জুটত শাস্তি, মৃত্যু পর্যন্ত।
এবার তালিবান নেতারা কথা দিয়েছিল, মহিলাদের বাড়ির বাইরে কাজ করতে দেবে। মেয়েরা স্কুলে গিয়ে পড়তে পারবে, যদিও শরিয়তের গণ্ডীর মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে মুখের কথা মিলছে না। ইতিমধ্যে মহিলাদের ওপর নানা ধরনের তালিবানি নির্যাতনের খবর আসছে। হেরাটে তারা কোএডুকেশন বন্ধ করে দিয়েছে। আর যেটুকু অস্পষ্টতা ছিল, তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের বক্তব্যে তা কেটে গিয়েছে। তিনি বলেই দিয়েছেন, মেয়েরা আপাততঃ বাড়ির বাইরে বেরবেন না, ভিতরেই থাকুন। কেন? মুজাহিদের সাফাই, জঙ্গিরা মহিলাদের যে আঘাত, নির্যাতন করতে হয় না, সেই প্রশিক্ষণ পায়নি। তাই যতক্ষণ না সুনিশ্চিত করা যাচ্ছে, ততক্ষণ মহিলাদের সাময়িক নীতি হিসাবে সুরক্ষার জন্য বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, আমরা উদ্বিগ্ন, যে ছেলেরা নতুন ঢুকেছে, তেমন ভাল প্রশিক্ষণ পায়নি, তারা হয়তো মহিলাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করবে। ঈশ্বর করুন, আমাদের বাহিনী মহিলাদের ক্ষতি বা হেনস্থা করুক, আমরা চাই না। তাই নতুন প্রক্রিয়া-পদ্ধতি চালু হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরেই থাকুন, দরকারে বাড়িতে বসেই তাঁরা বেতন পেয়ে যাবেন!
মুজাহিদের বক্তব্যে তালিবানের সাংস্কৃতিক শাখার ডেপুটি আহমাদুল্লাহ ওয়াসেকের কথার প্রতিধ্বনি রয়েছে। দি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ওয়াসেক বলেছেন, হিজাব পরে থাকলে মহিলাদের নিয়ে কাজ করতে তালিবানের কোনও সমস্যা নেই। তবেও তিনিও বলেছেন, এখন সামরিক পরিস্থিতি চলছে। সব স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা বাড়িতেই থাকুন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত মহিলাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে আফগানিস্তানে। তাদের বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ ছিল, এমনকী বাড়ির পুরুষ সদস্যকে না নিয়ে তারা বেরতেও পারতেন না। নৈতিকতার দোহাই দিয়ে প্রকাশ্যে মহিলাদের বেত মারা হত। তাদের শরীর ঢাকতে হত বোরখায়।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর নারী অধিকার শাখার অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর হিথার ব্রার বলেছেন, মহিলাদের ওপর বিধিনিষেধ সাময়িক প্রয়োজন হচ্ছে, এটা নতুন নয়। শেষ যখন আফগানিস্তান তালিবান দখলে ছিল, তখনও একই কথা বলা হয়েছিল যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভাল নয়, তারা ভাল সময়ের অপেক্ষা করছে, সব ঠিক হলেই মহিলারা আরও অধিকার পাবেন। কিন্তু ওরা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত সেই ভাল সময় কখনও আসেনি। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আফগান মহিলারা বিশ্বাস করেন, এবারও কখনও সেই ভাল সময় আসবে না।