.jpeg)
সুনীতা উইলিয়ামস।
শেষ আপডেট: 21 March 2025 09:50
পৃথিবীতে পা দেওয়ার পরে তিন দিন কাটিয়ে ফেলেছেন সুনীতারা। আপাতত ভালই আছেন তাঁরা। তবে খুবই সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কারণ দীর্ঘ মহাশূন্য ভ্রমণের কারণে সুনীতা ও বুচ, দু'জনের শরীরেই বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।
ফেরার দিন শত আনন্দের মধ্যেও সুনীতার সরু হয়ে আসা কব্জিতে ইনজেকশন দেওয়া আইভি চ্যানেল অনেকেরই চোখে পড়েছে। তার ওপর হাসিমুখের আড়ালে ক্লান্তির ছাপ, গভীর বলিরেখা এবং সাদা চুলের আধিক্যও স্পষ্ট।
মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মাংসপেশি সংকুচিত হওয়া, এমনকি দৃষ্টিশক্তিরও পরিবর্তন দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, তাঁদের দৃষ্টিশক্তির তেমন ক্ষতি হয়নি বলেই মনে হয়েছে।
বুধবার পৃথিবীতে পৌঁছনোর পর থেকেই ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছে সুনীতাদের। প্রথমেই উচ্চতা মাপা হয়, এরপর ফ্লাইট সার্জেনদের তত্ত্বাবধানে ইসিজি, ইউএসজি ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক বিশ্লেষণ চলে।
এর পরে আজ, তৃতীয় দিনে, তাঁদের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও চক্ষু পরীক্ষার জন্য এমআরআই করা হবে। মহাশূন্যের প্রতিক্রিয়ায় পাতলা হয়ে আসা ত্বকের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করবেন চিকিৎসকরা।
কাল বাদে, পরশু, অর্থাৎ পঞ্চম দিনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরিমাপের জন্য স্পাইরো-আর্গোমেট্রি পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি, রিহ্যাবের শুরু ও দশম দিনে মানসিক সুস্থতা যাচাই করতে হবে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন।
জানা গেছে, প্রথম সপ্তাহে দিনে দু’ঘণ্টা করে ক্রস এলিপ্টিক্যাল ট্রেনারে ওয়ার্মআপ, সাইক্লিং ও স্ট্রেচিং করানো হবে। ধাপে ধাপে দড়ি ধরে দোলানো, হাঁটার সময় বল ছোড়ার মতো ব্যায়ামও শুরু হবে। প্রতিদিনের ব্যায়ামের পর এক ঘণ্টা করে ম্যাসাজ থেরাপিও চলবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাইড্রোথেরাপি বা জলে ব্যায়ামের পাশাপাশি অন্যান্য ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ শুরু হবে।
এই পুনর্বাসন কর্মসূচিতে খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মাখন ও মাংস জাতীয় উচ্চপ্রোটিন খাবারই মূলত দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত শরীরে শক্তি ফিরে আসে।
৪৫ দিনের এই পুনর্বাসন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, সুনীতা ও তাঁর সহযাত্রী বুচ উইলমোর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন কি না। নাসার চিকিৎসকরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।