
অভিযুক্ত যুবক
শেষ আপডেট: 31 March 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ে জন্মেছে মাত্র ৮ দিন (8-Day old Daughter) হয়েছে। বাবার দায়িত্বে তাকে রেখে বাজারে গেছিলেন মা। ফিরে এসে দেখলেন, মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরে জানতে পারলেন, বাবাই তাকে ধর্ষণ করে খুন করেছে! ২০২৩ সালে এই বীভৎস এই ঘটনা ঘটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa)। অভিযুক্তকে গ্রেফতার (Arrest) করে আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ। শীঘ্রই তাঁর সাজা ঘোষণা হবে।
৩৭ বছর বয়সি হুগো ফেরেইরা সম্প্রতি পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর ৮ দিনের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছেন! রাগের বশে তিনি এই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন হুগো। পুলিশকে তিনি বলেছেন, শিশুটি খুবই কাঁদছিল। তাঁর স্ত্রী বাড়ি না থাকায় তাঁকেই সামলাতে হচ্ছিল তাকে। এতেই তাঁর রাগ হয়। শিশুটি যাতে ভীষণ ব্যথা পায়, এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন তিনি।
শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তার যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত রয়েছে। ঘাড় এবং মাথাতেও প্রবল আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি যৌন নিগ্রহও করা হয়েছে ওই ৮ দিনের শিশুকে। পুলিশি জেরায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ স্বীকার করেছেন হুগো। স্পষ্ট বলেছেন, শিশুটির সঙ্গে তাঁকে বাড়িতে একা রেখে যাওয়ার ব্যাপারে রাগ হচ্ছিল তাঁর। স্ত্রীকে ৫ মিনিটের মধ্যে ফিরতে বলেছিলেন। তিনি না ফেরায় এমন কাজ করেছেন।
হুগোর ব্যাখ্যায়, 'স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলাম ৫ মিনিটে ফিরে এসে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াও। সে আসেনি। এদিকে অনর্গল কেঁদে চলেছিল মেয়ে। তাই আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। প্রথমে তার ঘাড় শক্ত করে চেপে ধরে পরপর যৌনাঙ্গে আঘাত করি। তারপর একাধিকবার মাথা ঠুকে দিই দেওয়ালে। আরও ব্যথা দেওয়ার জন্য তাকে ধর্ষণ করেছি। যা করেছি সবই সজ্ঞানে করেছি। আমি জানি এগুলি অপরাধ। তবে আমি জেনেবুঝেই এই কাজ করেছি।'
হুগোর স্ত্রী এও অভিযোগ করেছেন, এত বড় ঘটনা ঘটানোর পর তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৮ দিনের মেয়ের শরীরের আঘাতের চিহ্ন ঢাকা দিতে চেয়েছিলেন। হাসপাতালেও নিয়ে যেতে দেননি প্রথমে। তবে কোনও ভাবে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছিল। পুলিশ জানিয়েছেন, এর আগে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীকেও প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছিলেন হুগো। সেই নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।