নাসা-র ফ্লাইট সার্জন নাতাশা চাউঘ জানিয়েছেন, মহাকাশযাত্রার পরে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে দাঁড়াতে বললে অনেকে পড়ে যেতে পারেন, কারণ চোখ ছাড়া শরীরের ভারসাম্য রক্ষার বাকি সব অঙ্গ মহাকাশে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
.jpg.webp)
শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 22 July 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশে ১৮ দিন কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। এখন পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তারই একটি ভিডিও সামনে এল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, টলমল পায়েই সোজা যাওয়ার চেষ্টা করছেন, বারেবারে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই তাঁকে সামাল দিতে ছিলেন দু'জন। এককথায়, মহাকাশ থেকে ফিরে আবার নতুন করে হাঁটতে শিখছেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন।
গত ২৫ জুন রওনা দিয়েছিলেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) পা রাখেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন নভশ্চর পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লাভোস উজনানস্কি এবং হাঙ্গেরির তিবোর কাপু। মোট ১৮ দিন মহাকাশে কাটিয়ে তাঁরা ফিরে আসেন ১.৩ কোটি কিমি পাড়ি দিয়ে, যা পৃথিবী-চাঁদের দূরত্বের ৩২ গুণ! এই সময় তাঁরা ২৮৮ বারের বেশি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছেন।
শুভাংশু লিখেছেন, 'পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে ফিরলে আবার শরীরকে নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়। সেই সময়টা খুব সাবধানে কাটাতে হয়। কারও শরীরের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগে, আবার কারও ক্ষেত্রে কম। তবে আমি নিজেও অবাক হয়েছি দেখে যে কতটা দ্রুত আমাদের শরীর নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
জানা গিয়েছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় শুভাংশুর রুটিনে ছিল হালকা কার্ডিও এক্সারসাইজ, ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পেশি শক্ত করা, হাই-প্রোটিন ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম।
গত মঙ্গলবার (15 July) ভারতীয় সময় দুপুর ৩টা ১ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে নেমে আসে স্পেসএক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। পৃথিবীতে ফেরার পর থেকেই শরীরের ভারসাম্য ফিরে পেতে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করছেন শুভাংশু। পুনর্বাসন কর্মসূচিতে রয়েছে, হৃদযন্ত্র, পেশি ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা যাচাই, মানসিক বিশ্লেষণ এবং ভারসাম্য পরীক্ষার মতো একাধিক ধাপ। অ্যাক্সিয়ম স্পেস (Axiom Space) এবং ইসরোর (ISRO) যৌথ তত্ত্বাবধানে চলছে এই প্রক্রিয়া।
মহাকাশে কাটিয়েছেন ১৮ দিন, পৃথিবীতে ফিরে আবার হাঁটতে শিখছেন শুভাংশু শুক্লা#SubhanshuShukla #ISRO #spacestaion #thewallbangla pic.twitter.com/cE5rkHwDLK
— The Wall (@TheWallTweets) July 22, 2025
নাসা-র ফ্লাইট সার্জন নাতাশা চাউঘ জানিয়েছেন, মহাকাশযাত্রার পরে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে দাঁড়াতে বললে অনেকে পড়ে যেতে পারেন, কারণ চোখ ছাড়া শরীরের ভারসাম্য রক্ষার বাকি সব অঙ্গ মহাকাশে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই শরীর পুরনো অবস্থায় ফিরে আসে।
প্রখ্যাত ফিজিওলজিস্ট উইলিয়াম শেলভামূর্তি জানান, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় শরীরে প্রথম ধাক্কা খায় হৃদযন্ত্র। রক্ত উপরের দিকে উঠে গিয়ে মাথায় চাপ পড়ে, মুখ ফুলে যায়, চোখে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গেই প্রভাব পড়ে ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করা অঙ্গগুলিতে। কানের ভিতরের তরল ও সেরেবেলাম মাধ্যাকর্ষণ ছাড়া ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না, ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব দেখা যায়।
আইএসএস-এ প্রতিদিন ১৬ বার সূর্য ওঠে ও ডোবে। যার ফলে ঘুম ও হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। একে সামলাতে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়।
মাধ্যাকর্ষণের অভাবে পেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এই প্রভাব দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলে বেশি হয়। তাই শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন শরীরচর্চা ও রেসিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, রাকেশ শর্মার (Rakesh Sharma) পর শুভাংশু শুক্লাই দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন। তবে তিনিই প্রথম, যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে দীর্ঘদিন কাটালেন। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গগনযান প্রকল্পে ভারত আরও একধাপ এগোলো। এই মিশন ভারতের মহাকাশ গবেষণায় যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।