ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে ৫৬ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব। উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাকিস্তানিদের ক্রমবর্ধমান সমস্যার ছবি আরও স্পষ্ট হল এই ঘটনায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 December 2025 10:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌদি আরব (Saudi Arabia) আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (United Arab Emirates)-দুই উপসাগরীয় দেশের দরজাই বন্ধ হতে বসেছে পাকিস্তানি (Pakistan) নাগরিকদের জন্য। কারণটা নতুন নয়, কিন্তু সংখ্যাটা এবার চোখ কপালে তোলার মতো। ভিত্তা বৃত্তির অভিযোগে সৌদি আরব ৫৬ হাজার পাকিস্তানি ভিখারিকে দেশে ফেরত পাঠাল সম্প্রতি। এই খবর সামনে আসতেই আবার নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, কেন বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ ইসলামাবাদ।
ঘটনাটা হঠাৎ করে হয়নি। গত বছরই শোনা গিয়েছিল, পাকিস্তানি ভিখারিতে ভরে যাচ্ছে সৌদি আরব। তখন বিষয়টাকে অনেকেই অতিরঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সরকারি সূত্রে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে আর সন্দেহের জায়গা নেই। শুধুমাত্র ভিক্ষা করার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা পাকিস্তানে এখনও রয়ে গেছে, আর তার ফল ভুগতে হচ্ছে আন্তর্জাতিকস্তরে।
পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (Federal Investigation Agency) বা এফআইএ (FIA) অবশ্য দাবি করে, তারা এই চক্র ভাঙতে চেষ্টা করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে সংগঠিত ভিক্ষুক চক্রগুলির বিদেশযাত্রা আটকাতে ৬৬,১৫৪ জন যাত্রীকে বিমান থেকেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ এত কড়া নজরদারির পরেও পরিস্থিতি যে বদলায়নি, তা স্পষ্ট হয়ে গেল সৌদি আরবের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ভিতরেই তৈরি করা হয়েছে একটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা (Travel Ban List)। সেই সঙ্গে রয়েছে একাধিক বিদেশি সরকারের কঠোর সতর্কতা (Advisory)। তবুও বাস্তবটা হল—হাজার হাজার মানুষ কেবল ভিক্ষা করার উদ্দেশ্যেই বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সৌদি প্রশাসন আর ধৈর্য রাখেনি। ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে একের পর এক অভিযান চালিয়ে ৫৬,০০০ পাকিস্তানি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
২০২৩-এর রিপোর্ট
এই সমস্যার শিকড় যে কতটা গভীরে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে (International Report) দাবি করা হয়, বিদেশে যত ভিখারি গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের নাগরিক। শুধু তাই নয়, মক্কার পবিত্র মসজিদ চত্বর (Mecca Mosque Area) থেকে যেসব পকেটমার ধরা পড়ে, তাঁদের মধ্যেও অধিকাংশ পাকিস্তানি। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমস্যা নিয়ে পাকিস্তান সরকারও আর অস্বীকার করেনি। আগেই তারা সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করেছিল, ভিখারি পাঠানো মাফিয়া চক্রের (Begging Mafia) বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে?
নতুন তথ্য বলছে, আশ্বাসের বাইরে বিশেষ কিছুই হয়নি। ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলি এখনও সক্রিয়। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলির ক্ষোভ বাড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের উপর।
এর মধ্যেই আরও বড় ধাক্কা এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে। গত মাসেই ইউএই (UAE) বেশির ভাগ পাকিস্তানি নাগরিকের ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—দেশটিতে গিয়ে পাকিস্তানিদের একাংশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (Criminal Activities) ও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের।
সব মিলিয়ে ছবিটা একেবারেই সুখকর নয়। সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিতে পাকিস্তানিদের ভাবমূর্তি (Image) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে দেশে চরম অর্থনৈতিক সংকট (Economic Crisis), অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে ভিসা নিষেধাজ্ঞা—এই দুই চাপে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।