রাশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার। তারা এই আটক অভিযানকে আইনবহির্ভূত বলে মনে করছে এবং এর কড়া জবাব দেওয়ার সতর্কতা দিচ্ছে।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 00:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর আটলান্টিকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক রুশ পতাকাবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার ‘ম্যারিনেরা’–র (Russian tanker seized by US) ২৮ সদস্যের দলে তিনজন ভারতীয় নাবিকও রয়েছেন (Indian crew on Marinera vesse)। রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ বাড়ছে (North Atlantic incident)। আটক নাবিকদের মানবিক ও সম্মানজনক ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি দ্রুত সব বিদেশি নাবিককে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা।
ক্রু-রা কোন কোন দেশের নাগরিক? কারা কারা আটক?
সূত্র অনুযায়ী, আগে ‘বেলা ১’ নামে পরিচিত ম্যারিনেরা জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে ১৭ জন ইউক্রেনীয়, ৬ জন জর্জিয়ান, ৩ জন ভারতীয়, এবং ২ জন রুশ নাগরিক (যাঁদের একজন ছিলেন ক্যাপ্টেন)। এই সকল ক্রুকে বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা আটক করে রেখেছেন। তাঁরা কবে মুক্তি পাবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও পরিষ্কার তথ্য নেই।
এদিকে জাহাজটির মালিকানা, তার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আইন ভঙ্গের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
কীভাবে আটক করা হল ট্যাঙ্কারটিকে?
গতকাল আমেরিকা রুশ পতাকাবাহী এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটিকে (যার ভেনেজুয়েলা-যোগও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে আটক করে। সপ্তাহভর চলা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার পর অভিযানে যুক্ত হয় রুশ নৌবাহিনীর সম্পদও। পুরো অপারেশনটি পরিচালিত হয় ব্রিটেনের অনুমোদন নিয়েই।
মার্কিন সরকারি সূত্র জানিয়েছে -
মস্কোর ক্ষোভ: ‘এটা সরাসরি জলদস্যু-সুলভ আচরণ’
জাহাজ আটক হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় রাশিয়া। দেশটির পরিবহন মন্ত্রক স্পষ্ট জানায়, “অন্য রাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড জাহাজে কোনও দেশের বলপ্রয়োগের অধিকার নেই।”
রাশিয়ার সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম উপদেষ্টা ও সাংসদ আলেক্সেই ঝুরাভলেভ আরও কঠোর মন্তব্য করেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থায় তাঁর বক্তব্য, “একটি বেসরকারি জাহাজকে সশস্ত্র মার্কিন বাহিনীর হাতে দখল করে নেওয়া, এটি জলদস্যু-সুলভ আচরণের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। জাহাজটি যেহেতু রুশ পতাকা বহন করছিল, তাই এটাকে রুশ ভূখণ্ডে হামলার সমান ধরা উচিত। এমন ঘটনার কঠোর এবং দ্রুত জবাব প্রয়োজন। আমাদের সামরিক নীতিতেও এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত প্রতিরোধের ব্যবস্থা, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথাও রয়েছে।”
রাশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার। তারা এই আটক অভিযানকে আইনবহির্ভূত বলে মনে করছে এবং এর কড়া জবাব দেওয়ার সতর্কতা দিচ্ছে।