
ক্ষেপণাস্ত্র দেখেই ধেয়ে গেল আয়রন ডোম, ইজরায়েলের আকাশে যেন দীপাবলি - সংগৃহীত ছবি।
শেষ আপডেট: 14 April 2024 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ' যেন দীপাবলির রাতের কলকাতা!
আকাশে চলছে আলোর খেলা। এমাথা থেকে ওমাথা উল্কার মত ছুটে যাচ্ছে আলোর বিন্দু। কোনওটা বড়, কোনওটা ছোট। যেন আতসবাজি সব। জ্বলছে। সঙ্গে ধোঁয়া। আর থেকে থেকে কান-ফাটানো শব্দ!
ফারাক একটাই, ওই প্রত্যেকটা আলো কোনও শব্দবাজি নয়, বরং এক-একটা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
রবিবার গভীর রাত থেকেই চোখে ঘুম নেই জেরুজালেম, তেল-আভিভ, হাইফার বাসিন্দাদের। সাধারণত, শুক্রবার সূর্যাস্ত হতেই ছুটি পড়ে যায় ইজরায়েলে। ইহুদি ঐতিহ্য মেনে শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল অবধি চলে 'শাবাথ'। অর্থাৎ, ইহুদি রীতিতে বিশ্রামের দিন। সাধারণত ইজরায়েলে ছুটির দিন একটা অন্যরকমের ব্যাপার। কলকাতায় রবিবারও আর-পাঁচটা দিনের মতই থাকে। হয়ত অফিস-কাছারি বন্ধ থাকে, এইটুকুই। কিন্তু তেল-আভিভে শনিবারে গেলে মনে হবে, যেন বামফ্রন্টের অগ্নিযুগে বাংলা বনধ ডাকা হয়েছে আর আপনি বনধের দিন শ্যামবাজারে এসে পড়েছেন। ইহুদিরা ওইদিন বাধ্যতামূলকভাবে কোনও কাজ করেন না, এমনকি অনেকে ফোনও ব্যবহার করেন না। রবিবার থেকে আবার সপ্তাহ শুরু হয়। ইজরায়েলে রবিবার একটা সাধারণ কাজের দিন। রবি থেকে শুক্র সাধারণত কর্মদিবস বলে ধরা হয়।
কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হামলা চালাতে পারে ইরান। ধেয়ে আসতে পারে ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি হতে পারে স্থলবাহিনীর আক্রমণ! তীব্র তৎপরতা শুরু হয় ইজরায়েল জুড়ে। হাইফা, তেল আভিভে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ হয়। ইজরায়েলে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। যারা গিয়েছেন, তাঁদের বড় শহরে থাকতে বলা হয়। যেগুলো এয়ার-ডিফেন্স দ্বারা সুরক্ষিত।
রবিবার প্রথম কাজের দিনের শেষেই অতএব রাতজাগার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন ইজরায়েলের বাসিন্দারা। একাধিক শহরে খোলা হয়েছে শেল্টার। কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে সেই বোমা শেল্টারে চলে যান। এদিকে ইজরায়েলের সমস্ত বায়ুসেনা ঘাঁটিতে শুরু হয় প্রস্তুতি। আসরে নামে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড। কাতার-কুয়েত সহ একাধিক জায়গায় মার্কিন সেনাঘাঁটিতে জোর কদমে চলে প্রস্তুতি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক ঘোষণা করেন, জর্ডন-লেবাননের ওপর দিয়ে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সও নজরদারি চালাবে।
রবিবার গভীর রাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইজরায়েলের আকাশসীমায় আসতেই যদিও সক্রিয় হয়ে ওঠে ইজরায়েলের এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা। আমেরিকা ও ব্রিটেনের একাধিক যুদ্ধবিমান থেকেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। একাধিক ব্রিটিশ ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান উড়তে থাকে জর্ডনের দিকে। শেষ অবধি সামান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া প্রায় সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকেই আটকানো সম্ভব হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষাসচিব গ্র্যান্ট শ্যাবস তীব্র নিন্দা করেছেন আক্রমণের। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি অত্যন্ত শঙ্কিত। যে কোনও মূল্যে এই ঘটনা থেকে বাড়তি উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, তা সুনিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।