দু’জন একসঙ্গে লাল গালিচা ধরে এগোলেন সাময়িকভাবে বানানো পডিয়ামের দিকে। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট এবং বি-২ বোমারু বিমান।

পুতিন ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 16 August 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলাস্কার (Alaska) ৯ ডিগ্রির ঠান্ডা আবহাওয়া। মুখোমুখি হলেন বিশ্বের দুই বিতর্কিত নেতা— আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War) নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশায় গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল তাঁদের দিকে। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “আলোচনা খারাপ হলে আমি উঠে চলে যাব।” ফলে পরিবেশ গরম হবে বলেই ধরে নিয়েছিল সকলে। কিন্তু যা ঘটল, তা যেন প্রস্তুত পাটিগণিতের বাইরের সিলেবাস।
ট্রাম্প এলেন চেনা ভঙ্গিতেই— হুঁশিয়ারি, শাসানি আর বড় বড় কথার গজগজানি নিয়ে। বললেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সাফল্য না এলে রাশিয়ার উপরে আরও কঠিন নিষেধাজ্ঞা আসবে। অথচ পুতিন নামতেই ছবি পাল্টে গেল। চারটি মার্কিন ফাইটার জেটের নিরাপত্তায় আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পৌঁছন পুতিন। লাল গালিচায় স্বাগত, ট্রাম্প তিন বার হাততালি দিলেন, তারপর লম্বা হ্যান্ডশেক, হাসি আর কনুইয়ে টোকা— মুহূর্তেই বদলে গেল উত্তেজনার আবহ।
দু’জন একসঙ্গে লাল গালিচা ধরে এগোলেন সাময়িকভাবে বানানো পডিয়ামের দিকে। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট এবং বি-২ বোমারু বিমান। পিছনে ঝলমল করছিল নীল ব্যানার। তাতে লেখা (শান্তির পিছনে ছুটছি) “Pursuing Peace”।
প্রথম দৃশ্য যেন নাট্যমঞ্চের মতো। আর তার মধ্যেই এল ট্যুইস্ট। ট্রাম্প হাত দেখিয়ে ইঙ্গিত করলেন, আর হঠাৎ করেই দু’জন একসঙ্গে ঢুকে পড়লেন ‘দ্য বিস্ট’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি লিমোজিনে। পুতিনের জন্য আলাদা রুশ গাড়ি প্রস্তুত থাকলেও তা ফাঁকা রইল। গাড়ির ভেতরে অন্ধকার কাচের আড়ালে চলল অন্তত ১০ মিনিটের গোপন আলাপ। বাইরে দেখা গেল পুতিনের ঠোঁটে প্রশস্ত হাসি। যেন সবটুকু সারাংশ ধরা রইল সেই ছবিতেই।
তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর বেরিয়ে এল যে ফল, তা কার্যত লবডঙ্কা। ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো তো দূর, সামান্য বিরতিরও কোনও চুক্তি হল না। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পের আগ্রাসী ভঙ্গি উধাও। বরং কণ্ঠে শোনা গেল খানিক ক্লান্তি, খানিক পরাজয়ের সুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যেন “ফ্ল্যাট” হয়ে গিয়েছিলেন আলোচনার শেষে।
পুতিন অবশ্য অন্য মেজাজে। সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে মজা করে বললেন, “পরের বৈঠক মস্কোয় হোক।” ট্রাম্প প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও পরে বললেন, “হ্যাঁ, চাপ আসবে, কিন্তু সম্ভবও বটে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন আলাস্কায় এসে দেখিয়ে গেলেন, রাশিয়া একঘরে নয়। তিনি মঞ্চ পেলেন, আলো পেলেন, হাসিমুখে ফিরলেন। ট্রাম্পের কাছে এই শীর্ষ বৈঠক ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি পূরণের সুযোগ। কিন্তু ছ’মাস পেরিয়েও সেই প্রতিশ্রুতি অধরাই। ফলত এই নাটকীয় বৈঠকের শেষে বিজয়ের হাসি মুখে নিয়ে ফিরলেন কেবল রুশ প্রেসিডেন্ট।