
শেষ আপডেট: 26 March 2024 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’...
ধ্বংসের পথে অরণ্য। হাজার হাজার একর বনভূমি ছারখার করে নগর সভ্যতা গড়ে উঠছে। কুঠারের ঘায়ে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে আকাশে দিকে মাথা তুলে থাকা বুড়ো অভিজ্ঞ গাছ। কুঁকড়ে যাওয়া ডালপালায় ফুটে উঠেছে যন্ত্রণার আর্তি। সেই আর্তি ছুঁয়েছে শিকড়। গাছপালার মৃত্যুতে অক্সিজেনের ভাঁড়ারে টান পড়ছে, উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী। বিশ্ব জুড়ে থাবা বসাচ্ছে দাঁত-নখ বের করা উষ্ণায়ণ। এমন ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে সবুজ বাঁচানোর অঙ্গীকার করেছেন ব্রাজিলের এক ফটোগ্রাফার দম্পতি।
স্যাবাস্তিয়া সালদাগো ও তার স্ত্রী লিলিয়া ২০ লক্ষাধিক গাছ লাগিয়ে একটি বনকে আবার প্রাণ প্রচুর্যে ভরপুর করে তুলেছেন। ১৫০০ একরের বেশি বনভূমিকে নতুন করে সৃজন করেছেন তাঁরা। ২০ লক্ষের বেশি গাছ লাগিয়েছেন। নিঃস্ব, রিক্ত, শ্মশান হয়ে যাওয়া বনভূমি এখন শ্বাস নিচ্ছে। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। ভাবা যায় না, হাজার হাজার একর রুক্ষ অঞ্চলে নতুন করে বনভূমির জন্ম দিয়েছেন ওই দম্পতি।
স্যাবাস্তিয়া সালদাগো ব্রাজিলের একজন বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরেছেন, নানা দুষ্প্রাপ্য ছবি তুলেছেন। ১৯৯০ সালে ফটোগ্রাফি থেকে অবসর নিয়ে ফিরে আসেন নিজের দেশে। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস তাঁর শৈশব-কৈশোরের সেই বনাঞ্চলে ঘুরে কাটিয়ে দেবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই এলাকায় গিয়ে চমকে ওঠেন সালদাগো। তিনি দেখেন, কোথায় সেই বন? গাছপালা, পশুপাখি সমৃদ্ধ সেই অরণ্য যেন শ্মশানে পরিণত হয়েছে। যতদূর চোখ যায় শুধু ধূ ধূ প্রান্তর। রুক্ষ, রিক্ত এলাকায় সবুজের ছিটেফোঁটা নেই। কেউ যেন অসীম শক্তি নিয়ে শিকড় থেকে সমস্ত গাছপালাকে উপড়ে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা পান সালদাগো। স্ত্রী লিলিয়াকে নতুন করে সেই বনভূমিকে সৃজন করার কথা ভাবেন। শুরু হয় অরণ্য বাঁচাও অভিযান।
২০ বছরের চেষ্টায় নতুন করে সবুজে সেজে ওঠে সেই বনভূমি। সেই ধূ ধূ প্রান্তরে এখন প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছ আছে। আছে অনেক বিরল প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদও। ফিরে এসেছে বনের পশুপাখি, কীটপতঙ্গ। এখন সেই অরণ্যে বাস করছে ১৭২ প্রজাতির পাখি, ৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ১৫ প্রজাতির সরীসৃপ।
'ইনিস্টিটিউট টেরা' নামে একটি সংগঠন চালাচ্ছেন ওই দম্পতি। এই সংগঠনের গাছ হল হারিয়ে যাওয়া অরণ্যকে ফিরিয়ে আনা। দেশের নানা প্রান্তে গাছ লাগাও অভিযান করছেন তাঁরা। ফিরিয়ে আনছেন সবুজ প্রকৃতিকে।