শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলে সংবাদ মহলে খবর ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী দেশের দখল নিতে পারে কিংবা ওলিকে পালাতে সাহায্য করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

বিভিন্ন মহলে তাঁর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে।
শেষ আপডেট: 9 September 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে ‘জেন জি’ (Gen G) প্রজন্মের প্রবল সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল অবস্থায় পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সর্বদল বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ওই বৈঠক হবে বলে স্থির হয়েছে। আর তাতেই বিভিন্ন মহলে তাঁর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। তিনিও শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলে সংবাদ মহলে খবর ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী দেশের দখল নিতে পারে কিংবা ওলিকে পালাতে সাহায্য করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ, এদিনই সেনা সদরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। ইতিমধ্যেই বিদ্রোহীরা নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএলের সদর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এদিন এক বার্তায় ওলি বলেছেন, সোমবারের প্রতিবাদের ঘটনা ও পরবর্তী প্রত্যাঘাতের ঘটনায় আমি মর্মাহত। হিংসা দিয়ে দেশের ভাল কাজ করা যায় না। আমাদের সকলেরই উচিত শান্তিপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সব দলকে অর্থবহ সমাধানে পৌঁছনোর লক্ষ্যে ডাকা হয়েছে।
এদিকে, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ইস্তফা দিলেন জল সরবরাহ মন্ত্রী প্রদীপ যাদব। তিনি জনতা সমাজবাদী পার্টির এমপি ছিলেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ওলির কাছে গিয়ে তিনি জেন জি বিদ্রোহ দমনে সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে ইস্তফা দেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেপালি কংগ্রেসের ভিতরেও সরকারে থাকা-না থাকা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। দলে বংশানুক্রমিক প্রভাবসম্পন্ন মুম্বইয়ের অভিনেত্রী মণীষা কৈরালার খুড়তুতো দাদু ডাঃ শেখর কৈরালা তাঁর অনুগামী মন্ত্রীদের ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন। যেহেতু দলের সভাপতি শেরবাহাদুর দেউবা সরে যেতে নারাজ, তাই শেখর কৈরালা তাঁর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীদের ইস্তফা দিতে বলেছেন।
পরিস্থিতি বিচার করে নেপালের সেনাবাহিনীও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে এদিনই। নেপাল সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদাধিকারীরা বর্তমানে আলোচনা চালাচ্ছেন। সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বাসসেট জানান, সেনা সদর দফতরে বৈঠকটি চলছে। আলোচনার ফলশ্রুতি বৈঠকের শেষে প্রেস বিবৃতিতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
নেপালে সরকার-বিরোধী নবীন প্রজন্মের (Gen Z) তরতাজা তরুণ-যুবসমাজের ‘গণহত্যাকারী’ শাসক সিপিএন-ইউএমএলের প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে শাসক জোট ও বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার সকালে বিদ্রোহীদল কার্ফুকে তুচ্ছ করে প্রধানমন্ত্রী ওলির বালকোটের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বালকোট চকে বিশাল সংখ্যায় জমায়েত দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিমার্গ ও বালকোট চকের সব রাস্তা বিক্ষোভকারীরা ঘিরে ফেলেছে। তারা সরকার ও ওলি-বিরোধী স্লোগান দিয়ে চলেছে।
ইতিমধ্যেই সোমবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক গণহত্যার দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করার পর কৃষি ও পশুপালনমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী এদিন সকালে এক্সবার্তায় ইস্তফা দেন। তিনিও সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ওলির দমন আইনের সমালোচনা করেন। নেপালি কংগ্রেসের এমপি অধিকারী বলেছেন, গণতন্ত্রে প্রশ্ন করার অধিকার সকলেরই আছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ গণতন্ত্রে স্বীকৃত। কিন্তু, সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়েছে, নির্বিচারে খুন করেছে তা দেখে মনে হচ্ছে দেশ থেকে গণতন্ত্র হারিয়ে গিয়েছে এবং একনায়কতন্ত্র ফিরে এসেছে।
এদিকে, সরকার সহযোগী নেপালি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপাও প্রধানমন্ত্রী ওলিকে গণহত্যার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন। পরিকল্পনা চলছে নেপাল কংগ্রেস সরকার থেকে গণইস্তফা দেবে এবং ওলিকে অপসারণ না করা হলে সরকারের উপর থেকে সমর্থনও তুলে নিতে পারে তারা।
মঙ্গলবার সকালে সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) চেয়ারপার্সন পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’র খুমালতারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দেশের যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের সুনাকোঠী বাড়িও ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলের ভাইসেপতির বাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারী তরুণরা। পদত্যাগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়াও নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্কের গভর্নর বিশ্ব পৌডেলের ভাইসেপতি এলাকার সরকারি বাসভবনেও ঢিল-পাথর ছোড়া হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার বুধানিকণ্ঠ এলাকার বাড়ির সামনেও ঘেরাও বিক্ষোভ চলছে। যদিও বাড়িতে হামলার আগেই তাদের ঠেকানো গিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা এখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী সহ মন্ত্রী ও সরকারি কর্তাদের বাড়িকে নিশানা করে এগোচ্ছে।