গ্রীষ্মের দহনজ্বালা থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে ভারতের কাছে সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী সাহায্য প্রার্থনা করল ইসলামাবাদের সরকার।

সিন্ধু জলচুক্তি
শেষ আপডেট: 14 May 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সেনার থেকে আগুনের গোলার মতো জবাব পেয়ে ভিতরে ভিতরে গরমে জ্বললেও বাইরের প্রকৃতির বহ্নিজ্বালায় দগ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গিহানার পরেই সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে নির্জলা দশা পাক চাষাবাদের। গ্রীষ্মের সেই দহনজ্বালা থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে ভারতের কাছে সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী সাহায্য প্রার্থনা করল ইসলামাবাদের সরকার।
পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তাজা ভারতের জলশক্তি মন্ত্রককে একটি চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। ভারতের কাছে আর্জিতে পাকিস্তান বলেছে, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। পাকিস্তান সমস্যা মেটাতে আলোচনায় আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন পাক জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব মুর্তাজা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারও ভারতের বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়ে দিয়েছিলেন, সংঘর্ষ বিরতি চলতে থাকলেও সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল নিয়ে ভারত অনড় থাকছে।
১৯৬০–এর চুক্তি বলছে, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সিন্ধুর ৩০% জল পাবে ভারত। বাকি ৭০% বরাদ্দ পাকিস্তানের। পহেলগাম হামলার পর ভারতের সাফ কথা, বন্যাসংক্রান্ত কোনও সতর্কবার্তা তারা পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নিজে নারাজ।
গত ৭ মে পাকিস্তানের ওপর প্রত্যাঘাতী জবাব ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। চারদিন ধরে দু’পক্ষের তরফ থেকেই সেনা এবং ড্রোন হামলা চলে। তারপর ঘোষণা হয় যুদ্ধবিরতি। কিন্তু জলচুক্তির ব্যাপারে আর কোনও কথা এগোয়নি ভারত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবারই দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ‘জল এবং রক্ত কখনও একসঙ্গে বইতে পারে না।’