
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2024 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে। দুপক্ষই সীমানায় দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছে। আফগানিস্তানের মাটিতে ঢুকে জঙ্গি ডেরা নিকেশের নামে পাকিস্তানের বোমা বর্ষণের ঘটনায় যারপরনাই খেপে রয়েছে তালিবান কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছিল, কাবুল, কান্দাহার, হেরাট থেকে ১৫ হাজার তালিবান যোদ্ধা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার দিকে এগিয়ে আসছে। সেই খবর পেয়ে পাকিস্তানও সাঁজোয়া গাড়িসহ সেনা মোতায়েন করছে সীমান্ত এলাকায়।
জানা গিয়েছে, পেশোয়ার ও কোয়েট্টা থেকে সেনা ও বিমানবাহিনীকে সীমান্তে মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। শুক্রবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক সরকারি অনুষ্ঠানে বলেছেন, পাক তালিবানকে আশকারা দিচ্ছে আফগানিস্তান। যা বরদাস্ত করা হবে না। বহুবার আফগান কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে মদত জোগানো বন্ধ করতে। পাকিস্তান কাবুলের সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব রেখে চলতে চায়। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের দিক থেকে বেশ কিছু সেনা ইতিমধ্যেই আফগান সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছে। আফগান তালিবান দলও মির আলি সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দিক থেকেই গোলাগুলি বর্ষণের শব্দ শোনা যায়নি। আফগানিস্তানের তালিবানের হাতে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র আছে। আমেরিকার সৈন্যের ফেলে যাওয়া প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র হাতে পেয়েছে তালিবান। যেমন- একে ৪৭, মর্টার, রকেট লঞ্চার। এছাড়াও ভৌগোলিকভাবেও পাহাড়ি এলাকা ও গিরিখাদ থাকায় যুদ্ধকৌশলেও অনেক এগিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের জঙ্গি খতম করতে পাকিস্তানের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বদলায় প্রায় ১৫,০০০ তালিবান জঙ্গি সীমান্তের দিকে যুদ্ধ তৎপরতায় এগোচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানা যায়। পাকিস্তানের বোমারু বিমান হানার তীব্র নিন্দা বুধবারই করেছিল তালিবান প্রশাসন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তারা বদলা নেবে, ছেড়ে কথা বলবে না। এই সেই আফগানিস্তানের তালিবান শক্তি, যাদের ক্ষমতায় ফেরাকে একদা প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আল্লার দোয়া বলে কবুল করেছিলেন, তারাই কী করে ইসলামাবাদের রক্তে হাত রাঙানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে ধেয়ে আসছে?
আফগানিস্তানের তালিবান পাকিস্তানেরই হাতেই দুধেভাতে বড় হয়েছে এবং দীর্ঘ বেশ কিছু বছর ধরে তাদের সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা পেয়ে এসেছিল। আজ হঠাৎ কী হল যে, তারাই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যের মতো ঘুরে দাঁড়াল! পাকিস্তান এখন তালিবানের ঘরে-বাইরে জোড়া ফলার মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে পাক-আফগান সীমান্তের কাছে ফুলেফেঁপে বড় হয়ে ওঠা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)। অন্যদিকে, সীমান্তের ঠিক ওপারেই থাকা আফগানিস্তান শাসন করা তালিবান কর্তৃপক্ষ।
পাক তালিবানের লক্ষ্যও হল আফগানিস্তানের মতো পাকিস্তানকে ইসলামি আমিরশাহিতে পরিণত করা। আফগান তালিবানের সঙ্গে পাক সরকারের সম্পর্ক চটার মূল কারণ হল, ইসলামাবাদের কর্তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি হামলার জন্য কাবুলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বাণিজ্য অবরোধ জারি করেছে। সর্বোপরি পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা ৫ লক্ষ অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগান উদ্বাস্তুকে বিতাড়িত করেছে। ভিসা নীতিতেও কঠোর ভূমিকা নিয়েছে শেহবাজ শরিফ সরকার। পাক তালিবানের বিরুদ্ধে প্রায় রোজই অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রচণ্ড বিগড়েছে।