পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের দাবি, মানচিত্রটি জাতিসংঘ-স্বীকৃত সীমারেখার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পরে অবশ্য এই পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়
শেষ আপডেট: 13 February 2026 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের মানচিত্রে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আকসাই চিন (Aksai Chin)-কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি মানচিত্র (US map shows PoK in India) প্রকাশ ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়ল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক (Pakistan Foreign Ministry) জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে (Pakistan reacts to USTR India map)। তাদের দাবি, মানচিত্রটি জাতিসংঘ-স্বীকৃত সীমারেখার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)-কে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরে অবশ্য সেই পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি (Tahir Andrabi) বলেন, “কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে ওই মানচিত্রটি পোস্ট করা হয়েছিল। আমরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা স্বীকার করেছে মানচিত্রটি ভুল ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক মানচিত্র, যেখানে পাকিস্তান ও ভারতের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল আলাদা করে দেখানো রয়েছে, সেটি জাতিসংঘের আইনি স্বীকৃতি প্রাপ্ত। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে গেলে সেই মানচিত্র দেখা যাবে।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান “সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে মার্কিন পক্ষ ওই ভুলের প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছে এবং জাতিসংঘ-স্বীকৃত আইনি মানচিত্রকেই তুলে ধরেছে, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার চূড়ান্ত মীমাংসা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের মাধ্যমে হওয়া উচিত, ইউএনএসসি রেজোলিউশন অনুযায়ী।”
বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপট
গত সপ্তাহে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করে। শুল্কহার কমানো এবং ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের অর্থনীতিতে বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা হয়।
এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (United States Trade Representative) বা USTR ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল, যার মধ্যে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও রয়েছে, ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। একই সঙ্গে আকসাই চিনকেও ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যদিও সেই অঞ্চলকে চিন নিজেদের বলে দাবি করে।
ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা মার্কিন স্বীকৃতির উপর নির্ভরশীল নয় - এমনটা স্পষ্ট থাকলেও, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের চর্চা থেকে এই উপস্থাপনা ছিল একেবারেই আলাদা।
ভুল না কৌশল?
মানচিত্রটি কি নিছক ভুল ছিল, না কি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ইঙ্গিত - তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর তাদের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি সম্পূর্ণ মুছে দেয়। এর ফলে বিতর্ক আপাতত স্তিমিত হলেও, ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া এবং ওয়াশিংটনের সংশোধন - দুই মিলিয়ে এই মানচিত্র-কাণ্ড যে কেবল টেকনিক্যাল কোনও ত্রুটি নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ - সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।