ফাউন্ডেশনের বোর্ডে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির না থাকলেও, তিনি ফাউন্ডেশনের শীর্ষ বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। তাই, পিআইএ বিক্রি হলে জাতীয় বিমান পরিবহণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ ঘুর পথে সেনাবাহিনীর হাতেই যেতে পারে বলে জল্পনা আরও জোরালো।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 December 2025 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান (Pakistan) শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) শর্ত মেনেই তাদের জাতীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA)–কে বিক্রির পথে হাঁটল। লোকসানে ডুবতে থাকা সংস্থাটির ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত চাপিয়ে দিয়েছে আইএমএফ (IMF)।
নতুন করে বেলআউট পেতে হলে পিআইএ (PIA) বিক্রি বাধ্যতামূলক - আইএমএফের এই শর্তই ইসলামাবাদকে দীর্ঘদিনের আতঙ্কিত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। দেশটির পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিক্রি করা হচ্ছে দুই দশকের মধ্যে প্রথম বড় বেসরকারিকরণ উদ্যোগ হিসেবে।
বুধবার ইসলামাবাদে (Islamabad) বিডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, ২৩ ডিসেম্বর পিআইএ–র নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমে এর লাইভ সম্প্রচার করা হবে।
কারা দৌড়ে? পাকিস্তানি দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব সংস্থা বিডে অংশ নিতে যোগ্য হয়েছে, তারা হল - লাকি সিমেন্ট কনসর্টিয়াম, আরিফ হাবিব কর্পোরেশন কনসর্টিয়াম, এয়ার ব্লু লিমিটেড, ফৌজি ফাউন্ডেশন সার আর এই তালিকার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফৌজি ফাউন্ডেশন, যা পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী কর্পোরেট গ্রুপের অংশ। বহু দশক ধরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তে সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে এসেছে।
ফাউন্ডেশনের বোর্ডে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির না থাকলেও, তিনি ফাউন্ডেশনের শীর্ষ বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। তাই, পিআইএ বিক্রি হলে জাতীয় বিমান পরিবহণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ ঘুর পথে সেনাবাহিনীর হাতেই যেতে পারে বলে জল্পনা আরও জোরালো।
পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফের পঞ্চম বৃহত্তম ঋণগ্রহীতা। ১৯৫৮ সাল থেকে দেশটি ২০ বারেরও বেশি ঋণ নিয়েছে। অস্থির রাজনীতি, সামরিক ব্যয়, দুর্বল অর্থশাসনের ফলে ২০২৩ সালে দেশটি দেউলিয়া হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছিল।
আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের উদ্ধারপ্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে ২০২৪–এর সেপ্টেম্বর মাসে। ১ বিলিয়ন ডলার তৎক্ষণাৎ পেলেও বাকি অর্থ তিন বছরের ধাপে ধাপে ছাড় হবে। বিনিময়ে কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার বাধ্যতামূলক। পিআইএ বিক্রি সেই সংস্কার–প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ধাপ।