২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোট শহর থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গি শিবিরে হানা দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। এর জবাবে পরের দিনই অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 June 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ'বছর আগে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন অভিনন্দন বর্তমান (Abhinandan Varthaman)। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার হাতে আটক হয়েছিলেন এই ভারতীয় উইং কমান্ডার। পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এবার সেই পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা, মেজর মোইজ আব্বাস শাহ, প্রাণ হারালেন তালিবান হামলায় (Taliban Attack)।
ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপের খবর পেয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে ১১ জন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) (Tehreek-e-Taliban Pakistan) সদস্যকে খতম করা হয়। কিন্তু তীব্র সংঘর্ষে দুই সেনাকর্মী প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যেই একজন মেজর মোইজ শাহ। মেজর মোইজ শাহ ছিলেন সেই দলের অন্যতম সদস্য যিনি ২০১৯ সালে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় অভিনন্দন বর্তমানকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আটক করেছিলেন।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় (Pulwama Attack) ভারতীয় সেনার গাড়ি আত্মঘাতী বোমা হামলার শিকার হয়। শহীদ হন কমপক্ষে ৪০ জন জওয়ান। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) হামলায় দায় নেয়। এই ঘটনার জেরে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে চিড় ধরে। পুলওয়ামা হামলার জবাবে ভারত বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমানহানা চালিয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোট শহর থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গি শিবিরে হানা দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। এর জবাবে পরের দিনই অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা।
সেইসময় মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান নিয়ে হামলাকারী এফ-১৬ বিমানের পিছু নেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান (Wing commander Abhinandan Varthaman)। সরকারি সূত্রের খবর, তিনি পাক হামলা বানচাল করেন এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর একটি এফ -১৬ যোদ্ধা জেট ধ্বংস করে দেন। যদিও সংঘর্ষের মধ্যেই ভারতের আকাশসীমা পেরিয়ে ঢুকে পড়েন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK)। আহতও হয়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগেই পাক সেনারা তাঁকে আটক করে। অভিনন্দনের একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাঁর চোখে-মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
অবশেষে যাবতীয় টানাপড়েন কাটিয়ে ১ মার্চ পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতে ফিরে আসেন অভিনন্দন। ওয়াঘা সীমান্তে তাঁকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।