
শেষ আপডেট: 10 November 2023 12:25
শনিবার সকালে ইজরায়েলের উপর হামাসের হামলার খবর পাওয়া মাত্র মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ইজরায়েলকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বকে জঙ্গিপনা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বসে নেই গেরুয়া শিবির। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধকে ঘরোয়া রাজনীতিতে টেনে এনে বিরোধীদের নিশানা করা শুরু করেছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাসট্যাগ প্রচারে আরএসএস ও বিজেপির অনুগামী সংগঠন এবং ব্যক্তিরা ইজরায়েলের চলতি পরিস্থিতির সঙ্গে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিগত ইউপিএ জমানার তুলনা টানা শুরু করেছে। কাশ্মীর ও পাকিস্তানকে নিশানা করে বলা হচ্ছে, আজকের ইজরায়েলের মতো ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ভারতও ইসলামিক জঙ্গিদের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছে।
গত দু’দিন যাবৎ #IStandWithIsrael, #IndiaWithIsrael and #BharatWithIsrael ইত্যাদি হ্যাসট্যাগে ইজরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে তুমুল প্রচার চলছে। তাতে দাবি করা হচ্ছে, এখনই ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারতের। ইজরায়েলকে ভারতের মিসাইল-সহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা দরকার। বলা হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দেশে ইসলামিক সন্ত্রাসের দিনগুলি ভোলার নয়।
ওই সময় কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। দেশে তখন সক্রিয় ছিল লস্কর-ই-তইবা, হিজবুল মুজাহিদিন এবং জয়েস-ই মহম্মদের মতো ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। গেরুয়া শিবিরের হ্যাসট্যাগ প্রচারে বলা হয়েছে হামাসের সঙ্গে এগুলির কোনও ফারাক নেই। একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
ঘটনা হল, তৃণমূলের মতো ইউপিএ সরকারের একাধিক শরিক এবং বামেদের মতো সমর্থক দলগুলি এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক। এছাড়া বাজপেয়ী এবং মোদী সরকারে থাকা এনডিএ-র বহু শরিক দলও এখন ইন্ডিয়া জোটে। স্বভাবতই গেরুয়া শিবিরের এই আক্রমণকে লোকসভা ভোটের আগে দেশে মেরুকরণের চেষ্টা হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ইজরায়েল-হামাস সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে দেখে হিন্দুত্ববাদী ভোটারদের একজোট করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
পাল্টা জবাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। যেমন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০১৮-র একটি টুইটের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ওই পোস্টে মোদী ভারত ও প্যালেসটাইনের মধ্যে বন্ধুত্বের পক্ষে সরব হয়েছিলেন।
বলাই বাহুল্য, অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং নরেন্দ্র মোদীর জমানায় জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলি হিন্দুত্ববাদীদের প্রচারে চেপে যাওয়া হচ্ছে। ২০১৯-এ কাশ্মীরে সিআরপিএফের কনভয়ে জয়েস-ই-মহম্মদের হামলায় ৪০জন জওয়ান নিহত হন। বাজপেয়ীর সময়ে সংসদে পর্যন্ত জঙ্গি হামলার ঘটে। এছাড়া, ১৯৯৯-এ কার্গিলে পাক জঙ্গি ও সেনার অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয় ভারতীয় সেনাকে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় যাত্রীদের মুক্ত করতে দাগী জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বাজপেয়ী সরকার। মোদীর জমানায় পুলওয়ামার ঘটনা ছাড়াও উরির সেনা ছাউনিতে পাক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ওই সব ঘটনা নিয়ে নীরব থেকে দশ বছর আগের ভারতে ইসলামিক সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়া শিবির দাবি তুলেছে ভারত ব্রহ্মসের মতো দেশিয় মিসাইল নিয়ে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াক। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই প্রচারে স্পষ্ট ইজরায়েল-হামাস সংঘাতকে হাতিয়ার করে লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে দেশে জাতীয়তাবাদ-দেশপ্রেমের জিগির তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে।