ইরান-আমেরিকা ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। এর প্রভাব কি ভারতে LPG ও জ্বালানির দামে পড়বে?

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 9 April 2026 00:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দু’সপ্তাহের জন্য আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান (Iran US ceasefire)। বুধবার এই খবর সামনে আসতেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বিশ্বজুড়ে এনার্জি মার্কেটে। এর প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়েছে। সাধারণত বড় কোনও যুদ্ধ হলেই তার প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। তবে এই সংঘাতের প্রভাব শুধু দেশের অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও তার ছাপ পড়েছিল।
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেল (oil price drop) ও এলপিজির (LPG price India) বড় অংশই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে আমদানি করে। এই কারণে হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের সময় এই পথে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতীয় পতাকাবাহী কিছু ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি পেলেও, উৎপাদনে ধাক্কা লাগায় দেশে জ্বালানির সঙ্কট দেখা দেয়। রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছিল, এমনকি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহও ছিল না। এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কি কমবে?
যুদ্ধবিরতির খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৩ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে এর প্রভাব এখনই দেশের পেট্রোল পাম্পে দেখা যাবে না। কারণ, দেশের তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় আন্তর্জাতিক বাজারের ১৫ দিনের গড় দামের ভিত্তিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুদ্ধ পুরোপুরি থেমে যায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে কিছুদিনের মধ্যে তেলের দাম কমতে পারে। তবে সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছবে, তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করছে।
এলপিজির ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি। যুদ্ধের কারণেই এলপিজির সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। ১ এপ্রিল বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হঠাৎই বেড়ে যায়, পরে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও বাড়ে। এখন যুদ্ধবিরতি হওয়ায় এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার জন্য প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে ‘টোল ফি’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। যদি তা কার্যকর হয়, তাহলে আমদানি স্বাভাবিক হলেও খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
এই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শুধু দাম কমার আশা নয়, ভারতের জন্য একটি সুযোগও তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় দেশের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, তেল ও গ্যাস আমদানির খরচ কমলে তা সাধারণ মানুষের খরচের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।