সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান তাদের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী’, এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ‘স্বাভাবিক’। তবে কোনও তৃতীয় পক্ষকে নিশানা করা হয়নি বলেই দাবি তাঁর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের (Pakistan) পাশে চিনের (China) সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। এমন অভিযোগে তোলপাড় শুরু হলেও, বেজিং সুর নরম করল। সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান তাদের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী’, এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ‘স্বাভাবিক’। তবে কোনও তৃতীয় পক্ষকে নিশানা করা হয়নি বলেই দাবি তাঁর।
সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সেমিনারে ভারতীয় সেনার (India) ডেপুটি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং দাবি করেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানের হয়ে সক্রিয়ভাবে তথ্য-সহায়তা দিয়েছে চিন, ব্যবহার করেছে উপগ্রহ-চিত্র। এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাও বলেন, “আমি স্পষ্ট জানি না, এই অভিযোগ কীভাবে এল। তবে সবাইকেই বুঝতে হবে, চিন-পাকিস্তান সম্পর্ক কোনও তৃতীয় পক্ষকে নিশানা করে না। বরং দুই দেশ এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষপাতী।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে কোনও মতবিরোধ যেন সংলাপ এবং আলোচনার মাধ্যমে মেটানো হয়, চিনের এই পুরনো অবস্থানেই আমরা আছি।”
রাফাল জেট নিয়ে বিতর্ক এড়াল বেজিং
প্যারিস থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত-পাক সংঘাতের পর রাফাল যুদ্ধবিমান সম্পর্কে সন্দেহ ছড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিনা দূতাবাসগুলি সক্রিয় হয়েছিল। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাও নিং বলেন, “এই বিষয়ে আমার কোনও তথ্য নেই।”
ভারতের অভিযোগ কী?
২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ৭ মে থেকে শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। অভিযানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের পরিকাঠামো ধ্বংস করা হয়। এই সময় ভারতের দাবি, শুধু পাকিস্তান নয়, চিন ও তুরস্ক— দুই দেশই নেপথ্যে সক্রিয় সহযোগিতা করেছে ইসলামাবাদকে। জেনারেল সিংয়ের কথায়, “আমরা অন্তত তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে একযোগে মোকাবিলা করছিলাম। পাকিস্তান ছিল সামনের মুখ, কিন্তু চিন পেছন থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সেনা সরাসরি ভারতীয় বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে লাইভ তথ্য পাচ্ছিল, যা সম্ভব হয়েছিল চিনা উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
পাকিস্তানের জবাব
ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও। তাঁর দাবি, “ভারতকে জবাব দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিকল্পনা ও সক্ষমতার ফল। বাইরের কোনও সহযোগিতা ছিল না।” ভারতের মন্তব্যকে ‘দায়সারা ও বাস্তববিবর্জিত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বেজিংয়ের বার্তা
চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, “ভারত-চিন সম্পর্ক এখন এক গুরত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই সম্পর্ককে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা আগ্রহী।”