যে কোনও হামলা প্রতিরোধী, চলমান প্রাসাদোপম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন উনের বিখ্যাত গ্রিন ট্রেনে চেপে চিনে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০-তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ প্যারেডে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এই বন্ধুত্ব অনেক ভারী পড়বে বলে অনেকেই মনে করছেন।
শেষ আপডেট: 2 September 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসসিও সম্মেলন শেষ হতে না হতেই বিশ্ব রাজনীতির কূটনৈতিক মঞ্চে নাটকীয় প্রবেশ ঘটল উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের। যে কোনও হামলা প্রতিরোধী, চলমান প্রাসাদোপম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন উনের বিখ্যাত গ্রিন ট্রেনে চেপে চিনে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০-তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ প্যারেডে অংশ নিতে যাচ্ছেন। যেখানে উপস্থিত থাকবেন খোদ চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এই বন্ধুত্ব অনেক ভারী পড়বে বলে অনেকেই মনে করছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এইদিনেই মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে জাপান। আর তার সঙ্গেই শেষ হয় চার বছরব্যাপী ভয়ঙ্করতম মহাযুদ্ধ। বুধবার প্যারেডে কিম জং উন ছাড়াও অংশ নেবেন ২৬ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ মন্ত্রীরা। তবে এবারেই এই অনুষ্ঠানে প্রথমবার পুতিন ও উন একসঙ্গে উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সেনাসহ নানানভাবে সাহায্য করে চলেছে রাশিয়াকে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিমের ট্রেন চিনে পৌঁছে গিয়েছে। কমরেড কিম জং উনের সঙ্গে রয়েছেন সেন্ট্রাল কমিটি অফ দি ওয়ার্কার্স পার্টি অফ কোরিয়ার পদস্থ অফিসাররা এবং ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়ার কর্তাব্যক্তিরা। উল্লেখ্য, এই সময় উনের বেজিং সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, সদ্যসমাপ্ত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনেই চিন-রাশিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার মাতব্বরি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিল।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিম গোটা বিশ্বে এক নির্বাসিত শাসক হয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় বকলমা কমিউনিস্ট স্বৈরাচারী শাসককে অনেক সাহায্য করেছিল চিন ও রাশিয়া। সেই কিম এই প্রথম এতগুলি দেশের নেতাদের সঙ্গে বুধবার তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের প্যারেডে দাঁড়াবেন। পরমাণু অস্ত্রে শক্তিশালী বলে প্রচারিত কিমের পাশেই থাকবেন পুতিন ও খোদ শি। ফলে এই অনুষ্ঠানটি পশ্চিমী দেশগুলির কাছে শক্তি সমীকরণের এক নয়া বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার শাসক কিমের এই ট্রেনটির নানা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দুর্ভেদ্য বর্মের মতো এই সবুজ রঙা ট্রেনের দেওয়াল গুলিনিরুদ্ধ। সে কারণে একে চলন্ত দুর্গ বলা হয়ে থাকে। নিরাপত্তার কারণে এই ট্রেনটি মাত্র ৬০ কিমি গতিতে চলে। ফলে বেজিং পৌঁছতে কিমের সময় লেগেছে প্রায় ২০ ঘণ্টা। এই ট্রেনে রয়েছে আস্ত একটি অস্ত্রাগার। উত্তর কোরিয়ার পুরনো যাত্রীবাহী বিমানের থেকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে এই ট্রেনে।
যেমন বিশাল জায়গা। নিরাপত্তা রক্ষী। প্রচুর খাবার-পানীয় এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। আলোচনাসভা, মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে নানান বিলাস রাখা হয়েছে এই লৌহশকটে। এই ট্রেনে রয়েছে বিলাসবহুল বেডরুম, গোটা ট্রেন সজ্জিত আধুনিক আলোকসজ্জায়। লালচে গোলাপি রঙের আরাম কেদারা। সেকারণে প্রায়শই কিম এই ট্রেনেই সফর করতে ভালবাসেন।